বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আজ রাজধানীর ধানমন্ডির বিডিওএসএন কার্যালয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্ত আসর ও স্বপ্ন ৭১ প্রকাশন আয়োজন করে ‘শতবর্ষে সুকান্ত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা গান, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা ও আবু সাঈদ সম্পাদিত 'শতবর্ষে সুকান্ত' স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
বইপ্রকাশের মধ্য দিয়ে কবির জীবন, সাহিত্য ও মানবিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাহিত্যানুরাগীরা।
অনুষ্ঠানে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ওপরের আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ ও গবেষণা মোহাম্মদ আবদুল হাই। তিনি বলেন, ‘এত ছোট বয়সে, এত কিছু করেছেন, তা সত্যি বিস্ময়কর! তরুণ প্রজন্মের কাছে সুকান্ত ভট্টাচার্য চর্চা করাটা জরুরি।’
গবেষক প্রশান্তকুমার রায় বলেন, ‘অল্পসংখ্যক মানুষই মহৎ কিছু সৃষ্টি করে।’
মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন মানুষের কল্যাণে। নতুন একটি পৃথিবী বিনির্মাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি নিজে কিশোর বাহিনীকে নিয়ে গেছেন অন্যান্য উচ্চতায়। ৩০০ জন্য থেকে এই কিশোর বাহিনীকে ৩ হাজার সদস্যে রূপান্তর করেন। আজ শতবর্ষের এই দিন কবি খুব বেশি প্রাসঙ্গিক। আমাদের কর্তব্যের তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশ করেছি শতবর্ষে সুকান্ত। বই একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বইয়ে দুটি অংশ আছে। প্রথম অংশ স্মৃতিকথা ও দ্বিতীয় অংশে শতবর্ষ নিয়ে কবিকে আলোচনা করা।
আবু সাঈদ আরও বলেন, ‘সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং একটি মানবিক সমাজের স্বপ্ন উঠে এসেছে।’
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন মুক্ত আসরের সাহিত্য সম্পাদক সাহিনা মিতা, নাজমুন নাহার, জেসমিন বন্যা, ইয়াতুল নেশা রুমা ও সুব্রত ভট্টাচার্য। গান পরিবেশন করেন শাহিন আক্তার পাপিয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্ত আসরের উপদেষ্টা ফারাহ দিবা আহমেদ, কবি আবদুল হালিম, সাংবাদিক ইয়াছির মোহাম্মদ, মুক্ত আসরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক চাকমা, মুক্তবন্ধু শফিক উদ্দিন শুভ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুক্ত আসরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়শা জাহান নূপুর।
‘শতবর্ষে সুকান্ত’ অনুষ্ঠানের আয়োজনে সহযোগিতা ছিল কাঠবিড়ালি প্রকাশন ও বইবিষয়ক পত্রিকা বইচারিতা।