কাণ্ডারী হুঁশিয়ার কবিতার শতবর্ষে উদ্যাপনে সারা দেশে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে ১৪টি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন। বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপনে দেশব্যাপী নানা আয়োজনের এই শুভক্ষণে আমরা বর্তমান সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় মানবতাবাদী বিদ্রোহী কবির সৃষ্টিসম্ভারের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে স্মরণ করি।
নজরুলের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’ এর শতবর্ষ পূর্তির প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করছি। ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে গানটি লিখে সুরারোপ করেন। ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি গানটি গেয়ে শোনান। ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শিরোনামে ‘বঙ্গবাণী’তে প্রকাশিত হয় গানটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’–প্রকাশিত হয় গানের নজরুল-কৃত স্বরলিপি। একই বছরের জুন মাসে নজরুল ঢাকায় আসেন এবং মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গান পরিবেশন করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার যখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে এবং অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিংসভাবে আঘাত হানছে তখন নজরুলের কাণ্ডারী হুঁশিয়ার আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। এই গানের শতবর্ষ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তির দিশা খুঁজে পেতে পারি।
বিবৃতিতে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনে সারা দেশে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন, সভা, সমাবেশসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সঙ্গীত একাডেমি (নারায়ণগঞ্জ) এবং কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।