হোম > শিল্প-সাহিত্য

জীবনানন্দ–আল মাহমুদসহ বাংলা সাহিত্যের ৪ বিশিষ্টজন স্মরণে দিনভর সেমিনার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলা একাডেমিতে কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী সেমিনার সিরিজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলা একাডেমিতে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী সেমিনার সিরিজ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি জীবনানন্দ দাশ, কবি আল মাহমুদ, লেখক ও অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ এবং কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম স্মরণে সেমিনারগুলো অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের এই চার বিশিষ্টজনের নানা দিক নিয়ে ভাবনা তুলে ধরেন আলোচকরা।

সকালে কবি আল মাহমুদ বিষয়ক সেমিনারে ‘কবিতাহীন সময়ে কবির কাল’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। আলোচনায় অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফ। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তাদের কথায় উঠে আসে, কবি আল মাহমুদ কবিতায় তাঁর সময়ের ছবি এঁকেছেন। তাঁর কবিতায় বাংলার লোকজীবনের অনুপম ছবি উঠে এসেছে।

বেলা ১২টায় শুরু হয় লেখক ও অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ সেমিনার। এতে ‘বাংলার ফেরদৌসী মনিরউদ্দীন ইউসুফ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ড. হালিম দাদ খান। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। আলোচনায় উঠে আসে মনিরউদ্দীন ইউসুফের প্রাচীন পারস্যের মহাকাব্য ‘শাহনামা’ নিয়ে কাজের কথা। লেখক বাংলা সাহিত্যের আরও নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন।

দুপুরে কবি জীবনানন্দ দাশ বিষয়ক সেমিনারে ‘জীবনানন্দ ও অন্ধকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও গবেষক কুমার চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। বক্তারা বলেন, জীবনানন্দ দাশ কবিতা ও সামগ্রিক রচনাকর্মে আলো-আঁধারির বিপরীতমুখী চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্ধকার কথাটি তাঁর লেখায় কেবল রূপক হিসেবে আসেনি, বরং অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে আলোর পাশাপাশি হাজির থেকেছে।

বিকেল ৪টায় কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম সেমিনারে ‘রশীদ করীমের উপন্যাস: মনস্তাত্ত্বিক আধুনিকতা, নাগরিক চেতনা ও মুসলিম মধ্যবিত্ত জীবনের শিল্পরূপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও গবেষক অধ্যাপক মাসুদুল হক। আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক হোসনে আরা। সভাপ্রধান ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচকরা বলেন, রশীদ করীম বাংলা কথাসাহিত্যে সংযোজন করেছেন নতুন মাত্রা। স্বল্পসংখ্যক গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও স্মৃতিচারণায়ই তিনি স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। তাঁর উপন্যাসে বাঙালি মুসলমানের শতাব্দীব্যাপী অভিযাত্রা উঠে এসেছে।

সেমিনারগুলোর আগে ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের পথিকৃৎ গুণীজনদের স্মরণে বছরব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলা একাডেমিসহ মন্ত্রণালয়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজধানী এবং এর বাইরে গুণীজনদের স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে গুণীজন স্মরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করছে।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, জীবনানন্দ দাশ, আল মাহমুদ, মনিরউদ্দীন ইউসুফ ও রশীদ করীম বাংলা সাহিত্যকে নানাভাবে ঋদ্ধ করেছেন। বাংলা একাডেমির সেমিনারে তাঁদের সৃজনকর্মের বিভিন্ন বিষয়ে নতুন দৃষ্টিতে ফিরে তাকানোর অবকাশ তৈরি হয়েছে।

সেমিনার সিরিজের পর্বগুলো সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব ও ইমরুল ইউসুফ এবং সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।

‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতার শতবর্ষ উদ্‌যাপনে কর্মসূচি পালনের আহ্বান

আজ রাত থেকে শুরু সেবা প্রকাশনীর বই বিক্রি

আঙ্কল স্যামের দেশে রবীন্দ্রনাথ

স্রোতের সুরে বিদ্রোহের বাঁশি: নদী ও নজরুলের অন্তর্জাগতিক বাংলা

জয়ন্তীর আয়োজনে আটকে আছে নজরুলচর্চা

আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া গল্প এআই দিয়ে লেখার অভিযোগ

নজরুল পুরস্কার পাচ্ছেন অধ্যাপক রশিদুন্ নবী ও ফাতেমা তুজ জোহরা

সাময়িক কার্যক্রম স্থগিত সেবা প্রকাশনীর

কবিগুরুকে নিয়ে চিত্রকর্ম ‘রবির চিত্র, চিত্রের রবী’, প্রদর্শনী চলবে ১৩ দিন

ছায়ানটে অনুষ্ঠিত হলো সমধারার দ্বাদশ কবিতা উৎসব