কৈশোরে রাঢ় বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ লেটোগানের দলে ভিড়েছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। লেটোদলের জীবন ছিল ভবিষ্যতের খ্যাতিমান কবি নজরুলের সৃজনশীলতার অন্যতম দীক্ষার জায়গা। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যকলা মিলনায়তনে সেই লেটোগানের আসর বসেছিল আজ বৃহস্পতিবার।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এই ঐতিহব্যাহী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবিকে স্মরণ করা হয় গতকাল। পরিবেশিত হয় লেটোগান ‘অন্ধরাজা’। এর পরিচালনা ও রূপায়নে ছিলেন ড. কমল খালিদ।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সায়মা আহমেদ লিজা। লেটোগান হচ্ছে কবিতা, গান ও নাটকের এক মিশেল। শিল্পকলায় লেটোগান ‘অন্ধরাজা’ পরিবেশন করে লেটোগানের দল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘নিমশা লেটোদল’ ও ‘মেদেনীপুর লেটোদল’। এরপর ‘কবির লড়াই’ পরিবেশনা শুরু হয়। পরিচালনা ও রূপায়নে ছিলেন জীবন চৌধুরী।
কবিয়াল জীবন উড়ের সঙ্গে পরিবেশনায় গানে গানে লড়াই করেন কবিয়াল গুমানী বাবু। পরিবেশনায় ছিলেন জীবন চৌধুরী, গুমানী বাবু, বাবুল হোসাইন, জীবন উড়ে, মামুন হোসাইন। দোহারে ছিলেন শান, সৈয়দ মাসুমুর রহমান, জয়ন্ত বিকাশ দাস, মাহমুদা আক্তার রুপা, আরবী ইসলাম স্বর্ণা, জান্নাত আরা শ্যামলী, অনন্যা রায় ও নারায়ণ দেব। বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে তবলায় তুষার কান্তি সরকার, বাঁশিতে মো. নয়ন, ঢোলে আকাশ কবির, মন্দিরায় মো. সোহেল মিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘কাজী নজরুল ইসলামের লেটোগান ও কবিগান: লোকঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও বিদ্রোহী চেতনার উৎসসন্ধান’ শিরোনামের প্রবন্ধ পাঠ করেন সরকারি সংগীত কলেজের লোকসংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. কমল খালিদ।
সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক মেহজাবীন রহমান।