চর্যাগান, পাপেট শো, আবৃত্তি এবং প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনার আয়োজন। শিরোনাম ছিল ‘এক রূপে বহুরূপী’। আজ শনিবার সকালে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে ছিল এই অনুষ্ঠান। এর আয়োজন করে ভাবনগর ফাউন্ডেশন।
শুরুতে সমবেত কণ্ঠে চর্যাপদের প্রথম পদ ‘কাআ তরুবর পঞ্চবি ডাল’ পরিবেশন করেন ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পী শাহ আলম দেওয়ান, সাধিকা সৃজনী তানিয়া, বাউল অন্তর সরকার, শিলা মল্লিক, আনিস মুন্সী ও ফতেহ কালাম। পরে চর্যাপদের চতুর্থ পদ ‘তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী’ পরিবেশন করেন সাধিকা সৃজনী তানিয়া।
কবি রাজীব কুমার দাশের ‘সুখবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করেন নূরুননবী শান্ত। এরপরে রাজীবের কবিতা নিয়ে দুটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। নাট্যকার ও গবেষক শরণ এহসান ‘রাজীব দাশের নিরন্ন ললাট: কাব্যতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব ও নন্দনতাত্ত্বিক পাঠ’ শীর্ষক প্রবন্ধ এবং গবেষক হাসান দবির উদ্দিন ‘প্রেম, বিশ্বাস ও সমকালীন মানুষের অন্তর্গত বিপর্যয়: রাজীব কুমার দাশের সুখবতী ও আমি আমার বিশ্বাসের কাছে লজ্জিত’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রবন্ধ পাঠ শেষে আলোচনায় অংশ নেন কবি শাহেদ কায়েস, গবেষক আসাদ আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গহর গালিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ।
আলোচকেরা বলেন, রাজীব দাশ তাঁর কবিতার মাধ্যমে নিজের আত্মপরিচয় নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমকালীন কবিতায় একটি স্বতন্ত্র স্বর প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নিজের কবিতাভুবন, সৃষ্টিপ্রক্রিয়া ও কাব্যচিন্তা নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন কবি রাজীব কুমার দাশ। শেষে তিনি নিজের সদ্য রচিত একটি কবিতা পাঠ করেন।
আলোচনা শেষে অন্তর সরকারের নেতৃত্বে ভাবনগর সাধুসঙ্গের সাধকশিল্পীরা চর্যাপদের গান পরিবেশন করেন। সবশেষে কবিতা ও গানের সহযোগে পাপেট শো পরিবেশন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিমা বিনি ও অর্ণব মল্লিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সাইমন জাকারিয়া।