হোম > বিশ্লেষণ

প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী গার্ডের মতপার্থক্য স্পষ্ট—পর্যবেক্ষকদের মত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

(ডান দিক থেকে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ‘নরম অবস্থান’ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) ‘কঠোর নীতি’র মধ্যে বৈপরীত্য স্পষ্ট।

ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রোগ্রামের প্রধান আলী ভায়েজ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করেছেন। ভায়েজের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট করতে আগ্রহী নন। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার জন্য ক্ষমা চেয়ে পেজেশকিয়ানের দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে ভায়েজ বলেন, এটি প্রমাণ করে যে ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

আলী ভায়েজের মতে, পেজেশকিয়ান ইসলামিক রিপাবলিকের ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছেন। বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতি মূলত পরিচালিত হচ্ছে রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং তাদের সাবেক কমান্ডারদের মাধ্যমে। যার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী লারিজানি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক জোটের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিণাম নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু আইআরজিসি তাদের বর্তমান আগ্রাসী নীতি চালিয়ে যেতে অনড়। তবে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি বা একক কর্তৃত্বের অভাবই এই অনৈক্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরান বর্তমানে একটি ‘সারভাইভাল মোড’ বা টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী শত্রু মোকাবিলা করতে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার কৌশলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই কৌশল থেকে সরে আসা ইরানের জন্য সহজ হবে না।

তবে আলী ভায়েজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ হয়তো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে, কিন্তু দিন শেষে তারা সবাই একই নৌকার যাত্রী। নৌকা ডুবলে সবাই একসঙ্গেই ডুববে।’

পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ট্রাম্পের

এদিকে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্যকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানি থিঙ্কট্যাংক ডিপ্লোহাউসের পরিচালক হামিদরেজা গোলামজাদে। তিনি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

গোলামজাদে বলেন, ‘ইরান সাত দিন ধরে যা করে আসছে, এখনো সেই অবস্থানেই আছে। তারা কোনো প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।’

ইরান মূলত তাদের প্রতিবেশীদের কাছে একটি আইনি ও স্বাভাবিক দাবি জানাচ্ছে—যেন তারা ইরানকে আক্রমণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে নিজেদের ভূমি বা আকাশপথ ব্যবহার করতে না দেয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

হঠাৎ কেন প্রতিবেশী দেশে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান, নেপথ্যে কী

যুদ্ধের উত্তাপ পাকিস্তানে: সৌদি ও ইরানের মাঝে ভারসাম্য কতক্ষণ রাখতে পারবে ইসলামাবাদ

ইরান যুদ্ধে হুতিদের নীরবতা কি তুমুল ঝড়ের পূর্বাভাস

কুর্দিরা কি পারবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভারতীয়দের চুলা

৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, ঘোল খাইয়েছে পশ্চিমাদের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চীনা স্যাটেলাইট ইরানের নীরব ঢাল

ইরানে কুর্দিদের নিয়ে জুয়ায় যেসব কারণে হারতে পারেন ট্রাম্প