হোম > বিশ্লেষণ

সুন্দর খেলার ‘অসুন্দর রূপ’ কেন দেখা যায় বিশ্বকাপে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, বিস্ময় এবং ইতিহাস সৃষ্টির মঞ্চ। প্রতি আসরেই কোনো একটি দেশের সমর্থকেরা স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসেন, আর বাকি দেশগুলোর সমর্থকদের সঙ্গী হয় হতাশা। বিশ্বকাপ উপহার দেয় অবিস্মরণীয় মুহূর্ত—ডিয়েগো ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্য, জোহান ক্রুইফের অসাধারণ টার্ন, কিংবা গর্ডন ব্যাংকসের অবিশ্বাস্য সেভের মতো ঘটনা যেমন আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমর হয়ে আছে। একইভাবে রবার্তো বাজ্জিওর পেনাল্টি মিস, লুইস সুয়ারেজের বিতর্কিত হ্যান্ডবল বা জিনেদিন জিদানের হেডবাটও বিশ্বকাপ ইতিহাসের আলোচিত অধ্যায়।

তবে এসব স্মরণীয় মুহূর্তের আড়ালে বিশ্বকাপের আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তেজনাকর এই মঞ্চে অনেক ম্যাচই হয়ে ওঠে ধীর গতির, রক্ষণাত্মক এবং দর্শকদের কাছে কম আকর্ষণীয়। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিনটি বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে গোল হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ টি। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে এই হার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩-এ। তুলনামূলকভাবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একই সময়ে প্রতি ম্যাচে গোলের গড় ছিল ২ দশমিক ৮।

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঘাটতি অন্যান্য পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। গত বিশ্বকাপে প্রিমিয়ার লিগের তুলনায় প্রতি ৯০ মিনিটে শটের সংখ্যা ছিল ১৬ শতাংশ কম, অথচ ফাউলের সংখ্যা ছিল ১৭ শতাংশ বেশি। একটি ম্যাচে ১৮টি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ডও দেখানো হয়েছিল।

তবে দীর্ঘ ক্লাব মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি, আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কম অনুশীলন এবং শিরোপা জয়ের চাপ—সব মিলিয়ে খেলায় সতর্কতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর জন্য রক্ষণাত্মক কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ ৩২ দলে সম্প্রসারিত হওয়ার পর ক্রোয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, উরুগুয়ে ও মরক্কোর মতো তুলনামূলকভাবে কম প্রত্যাশিত দল সেমিফাইনালে উঠেছে। এসব দলের সাফল্যের বড় কারণ ছিল সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করা। ফলে অনেক দল ‘পার্ক দ্য বাস’ কৌশল গ্রহণ করে, অর্থাৎ অধিকাংশ খেলোয়াড়কে রক্ষণে রেখে গোল না খাওয়ার চেষ্টা করে।

এদিকে, অন্যান্য জনপ্রিয় খেলাধুলার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো খেলা আরও আকর্ষণীয় করতে নিয়ম পরিবর্তন করছে। বেসবলে সময়সীমা নির্ধারণ, রাগবিতে আক্রমণভাগকে সুবিধা দেওয়া কিংবা ক্রিকেটের আইপিএলে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ চালুর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাস্কেটবলে বহু আগেই শট ক্লক চালু করে খেলার গতি বাড়ানো হয়েছিল।

ফুটবল ঐতিহ্যগতভাবে নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল। তবে সম্প্রতি ফিফাও নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সাবেক কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার অফসাইড আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের মধ্যে স্পষ্ট ফাঁকা জায়গা থাকলেই অফসাইড ধরা হবে। এতে বর্তমানে ভিএআরের কারণে বাতিল হওয়া অনেক গোল বৈধ হতে পারে।

এ ছাড়া ভিএআর নিয়ে সমর্থকদের অসন্তোষও বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ব্রিটিশ সমর্থক মনে করেন ভিএআর খেলা দেখার আনন্দ কমিয়ে দেয়। তাই অনেকের মতে, সীমিত সংখ্যক ‘চ্যালেঞ্জ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিএআর ব্যবহার করা হলে অপ্রয়োজনীয় বিরতি কমবে এবং খেলার গতি বাড়বে।

বিশ্বকাপের আকর্ষণ কখনো কমবে না। তবুও ফুটবলকে আরও প্রাণবন্ত ও দর্শকবান্ধব করতে ফিফা যদি কিছু কার্যকর পরিবর্তন আনে, তাহলে গোলের সংখ্যা বাড়বে, বিতর্ক কমবে এবং বিশ্বকাপ সত্যিকার অর্থেই ‘সুন্দর খেলা’র সবচেয়ে সুন্দর মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

প্রথম বিদেশ সফরে কেন ভারতে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হ্লাইং

রাজনীতির মহা–পুনর্বিন্যাসে কোন পথে যাবে ভারত

যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, কিন্তু পিছু হটছে না ইরান

মৃতদের ভিড়ে জীবিত নিউইয়র্ক টাইমস

ইউক্রেনে ব্যর্থতায় পতন হতে পারে পুতিনের

ট্রাম্পের চাপের মুখে পাকিস্তান কি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে, না দিলে কেন নয়

সর্বত্র এগিয়ে থাকা চীন কেন ফুটবলে পিছিয়ে

‘নীরব মৃত্যু’দূত বদলে দিচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতা, পিছিয়ে পড়ছে রাশিয়া

পাকিস্তানের পরমাণু প্রকল্পে হামলার পরিকল্পনা ছিল ভারত-ইসরায়েলের, কেন না বলেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভাঙনের সুর তৃণমূলে