আগামী ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হবে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব। তাঁকে বেছে নিতে নিরাপত্তা পরিষদে ইতিমধ্যে দুই দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদের জন্য এগিয়ে থাকা আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই নারী ও তিনজন পুরুষ।
দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে আছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বিরকেট। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি। প্রথম দফায় এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে ইউএনসিটিএডি প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবার পিছিয়ে গেছেন। তৃতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, যিনি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান মিশেল বাশেলেত, ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা অ্যাসপিনোসা ও ইভোনে আ-বাকি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাকি সাল এবং উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলারা ওতুনু।
তবে অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে থাকলেই মহাসচিব হওয়া নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে এবং পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) কারও ভেটোর মুখে পড়া যাবে না। এই শর্ত পূরণ হলে পরিষদ ওই প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।
প্রক্রিয়ার শুরুতে সদস্যরা গোপন ব্যালটে তিন ধরনের মত দেন—সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। প্রথম কয়েক দফায় সব সদস্যের ব্যালট একই রঙের থাকে। পরে স্থায়ী সদস্যদের ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। তখন বোঝা যায় কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভেটো আছে কি না। তবে ভেটো দিলেও কোন দেশ এই ভেটো দিয়েছে তা প্রকাশ করা হয় না।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে ভেটো নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের এই ব্যবস্থা চালু হয়। এবারও আরও কয়েক দফা ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা লাসেন জানিয়েছেন, পরবর্তী ভোটের সময় নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে নতুন প্রার্থীও দৌড়ে যোগ দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কূটনীতিকেরা। বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতাধর দেশগুলো কোনো বর্তমান প্রার্থীকে নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের অলিখিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে জাতিসংঘের পরবর্তী মুখ হবেন, তা নির্ভর করবে ১৫ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী পাঁচ দেশের সম্মতির ওপর।