হোম > বিশ্লেষণ

ইরান হামলায় ট্রাম্পকে গোপনে উসকানি দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও নেতানিয়াহু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী মোড় নিয়ে শনিবার ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ইরানের প্রায় চার দশকের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এই আকস্মিক ও বিশাল সামরিক অভিযানের নেপথ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কয়েক সপ্তাহের নিবিড় ও গোপন লবিং কাজ করেছে বলে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিক ব্যক্তিগতভাবে ফোনকল করে ইরানে হামলার জন্য প্ররোচিত করেছেন। প্রকাশ্যে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে যুবরাজ সতর্ক করেছিলেন যে এখনই আঘাত না হানলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তবে ইরানি প্রতিশোধের হাত থেকে নিজেদের তেলের খনি ও অবকাঠামো রক্ষা করতে প্রকাশ্যে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিল।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখা নেতানিয়াহু এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইসরায়েল একা হলেও এই হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে যৌথ অভিযানে উৎসাহিত করে।

হামলার পরপরই এক ভিডিও বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো প্রেসিডেন্ট যা করতে রাজি হননি, আমি আজ রাতে তা-ই করছি। এখন আপনারা যা চেয়েছিলেন তা-ই পেয়েছেন, দেখা যাক আপনারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান।’

মজার বিষয় হলো, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (ডিআইএ) আগেই জানিয়েছিল, আগামী এক দশকের মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে বড় কোনো হামলার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) জানিয়েছিল ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। এই গোয়েন্দা মূল্যায়নকে উপেক্ষা করেই ট্রাম্প এই বিশাল অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের দূতাবাস জিম্মি সংকট, ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন ব্যারাকে হামলা এবং ২০০০ সালে ইউএসএস কোল ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, এই হামলা কয়েক দশকের সংঘাতের ‘পাওনা শোধ’।

ইরান ইতিমধ্যে সৌদি আরবের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে। রিয়াদ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেতারা এই হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেছেন, ‘আমেরিকার ওপর এমন কী তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল, যার জন্য আমাদের সৈন্যদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’

বর্তমানে ইরানে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘ইরানি দেশপ্রেমিকদের’ সঙ্গে মিশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্থলপথে কোনো সৈন্য না পাঠিয়ে শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো মার্কিন যুদ্ধবিমানের গর্জন থামেনি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই ‘পিনপয়েন্ট’ বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

খামেনি হত্যাও টলাতে পারবে না ইরানকে, আঘাতের মূল অস্ত্র হবে ড্রোন

ইরানে রেজিম পরিবর্তনে ট্রাম্পের জুয়া—অতীতের চেয়ে আলাদা যেখানে, সফল হবে কি

খামেনির উত্থান ও মৃত্যু, একটি যুগের সমাপ্তি

চীনকে পাশে পাচ্ছে ইরান, কিন্তু কীভাবে

খামেনির মৃত্যুই শেষ নয়, ইরানের শাসনকাঠামো ভাঙবে না সহজেই

নেতানিয়াহুর যুদ্ধ লড়ছেন ট্রাম্প, ফায়দা কেবলই ইসরায়েলের

খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী

ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনেই হামলা

ইরানে মার্কিন হামলার পরিণতি নিয়ে যা বলছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষকেরা

খামেনির পতন ঘটলে কী হবে, তাঁর বিকল্প আছে কি