শত শত বছর আগে আরবের মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানো বেদুইনদের কাছে আধুনিক উপায়ে খাবার সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তারা যখন শিকার করত বা পশু জবাই করত, তখন এগুলোর মাংস যেন নষ্ট না হয়ে দীর্ঘদিন ভালো থাকে ও সহজে বহন করা যায়, সেজন্য মাটির নিচে মাংস রান্নার এক পদ্ধতি আবিষ্কার করে তারা। রাতে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তাতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে মসলা মাখানো মাংস কলা বা খেজুর পাতা দিয়ে মুড়িয়ে সেই জ্বলন্ত কয়লার গর্তে মাটি চাপা দিয়ে রেখে দিত। সারা রাত বা দীর্ঘ সময় ধরে হালকা আঁচে রান্না হওয়ার কারণে মাংসের ভেতরের সব জীবাণু মারা যেত এবং মাংসটি দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার উপযোগী থাকত। ওমানে মাংসের এই পদটিকে বলা হয় শুয়া। এখনো সে দেশে বেশ জনপ্রিয় এই খাবার। পরিবেশন করা হয় সাধারণত সুগন্ধযুক্ত চালের ভাত এবং এক ধরনের বিশেষ টক-ঝাল সসের সঙ্গে। ভাতের ওপর স্থানীয় তাজা ওমানি ঘি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাজা সালাদ কিংবা দইয়ের রায়তাও হতে পারে শুয়ার সঙ্গী। যেকোনো উৎসব, বিশেষ করে ঈদুল আজহায় এই খাবার তৈরি করা হয়।
ছবি সৌজন্য: স্পাইস অ্যান্ড জিঞ্জার