প্রাচীনকালে স্লাভিক অঞ্চলের মানুষ একধরনের বুনো উদ্ভিদের ডাঁটা ও পাতা গেঁজিয়ে একটি টক স্যুপ তৈরি করত। প্রাচীন স্লাভিক ভাষায় এই উদ্ভিদকে ‘বোর্শেভিক’ বলা হতো। এটি থেকে পরবর্তীকালে ইউক্রেনের জাতীয় ও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্যুপ ‘বোর্শ’-এর উৎপত্তি হয়। ষোড়শ শতাব্দীর দিকে ইউক্রেনীয়রা রোমানদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এই স্যুপে বিটরুট ব্যবহার শুরু করে। এর ফলে স্যুপটি তার চেনা মিষ্টি স্বাদ এবং উজ্জ্বল লাল রং পায়। আমেরিকা অঞ্চল থেকে আলু এবং টমেটো ইউরোপে আসার পর উনিশ শতকে ইউক্রেনীয়রা বোর্শে আলু ও টমেটো পেস্ট ব্যবহার শুরু করে। এ ছাড়াও এতে ব্যবহার করা হয় বাঁধাকপি ও মাংস—গরু, মুরগি কিংবা শূকর। পরিবেশনের সময় স্যুপের ওপর এক চামচ টক ক্রিম ও কুচানো তাজা ডিলপাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত বোর্শের সঙ্গে রসুন ও তেল মাখানো ছোট নরম রুটি পাম্পুশকি বা রাই ব্রেড খাওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বোর্শের ঐতিহ্য যেন না হারায়, তাই ২০২২ সালে ইউনেসকো এটিকে দেশটির ‘বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ছবি সৌজন্য: জিঞ্জার উইদ স্পাইস