একসময় শিক্ষাকে একটি ফুটো পাত্র আকারে দেখা হতো, যেখানে হয়তো একজন পানি দিচ্ছে কিংবা কেউ শিক্ষাকে মন্ত্র হিসেবে দেখছেন; যার জোরে যে কেউ তাঁর নিজের মতো করে জ্ঞানের রাজ্যে হাঁটতে পারেন। ‘অন্বেষণ ও সৃষ্টি’র পথে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারেন। ওই ধারার শিক্ষার কথা বলছেন ভনহাম বোল্ডট। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনক হিসেবে তাঁকে আজ ধরা যায়।
জন ডিওয়ে, পাওলো ফ্রেইরিসহ যাঁরা প্রগতিবাদী ও ক্রিটিকাল শিক্ষা নীতির প্রবক্তা আছেন, তাঁরা আমার মতে বোল্ডটের চিন্তাকে আরও বিস্তৃত করেছেন। ... এমআইটির এক পদার্থবিদ বলতেন, আমরা আমাদের সিলেবাসের কতটুকু শেষ করেছি সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর মধ্য দিয়ে আপনি কী আবিষ্কার করতে পেরেছেন, সেটিই মুখ্য।
কিন্ডারগার্টেন পর্যায়েও ওই ধরনের চিন্তার বিকাশ ঘটানো হয়েছে। এ ধরনের চিন্তা শুধু বিজ্ঞান বিভাগ নয়, সব শিক্ষাব্যবস্থাতেই উপযোগী।
বাজারি শিক্ষা নিঃসন্দেহে আমাদের দুর্ভাগ্য, বাস্তব অর্থেই ক্ষতিকর। ওই ব্যবস্থাকে আমি মনে করি, জনতার প্রতি উদারতাবাদের এক কঠোর চপেটাঘাত। আসলে বর্তমান দুনিয়ায় ব্যবসার মডেল অনুযায়ী তাদের দরকার ‘দক্ষ’ জনশক্তি। এর মানে, যেকোনো কাজের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তোলা। এটিকে এলেন গ্রিনস্প্যান ‘উঠতি শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
উচ্চশিক্ষার পুরো ব্যবস্থাটিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানমুখী করলে এর ফল ভালো হয় না। আমেরিকার অঙ্গরাজ্য উইসকনসিনে গভর্নর স্কট ওয়াকারসহ কয়েক ব্যক্তি সেখানকার ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়ীদের ‘সেবার’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ... পরে অবশ্য ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা এটিকে ভুল আখ্যা দিয়ে সব ঠিক করে নেন। ফলে যা হচ্ছে, তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে না, হচ্ছে সবখানেই। এমনকি ব্রিটেনে পর্যন্ত প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তৃতীয় সারির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। যেমন, অক্সফোর্ড-এর প্রসিদ্ধ বিভাগগুলোকে পর্যন্ত বাজারে তাদের কাজের প্রমাণ রাখতে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সি জে পলিক্রেনিউ কর্তৃক গৃহীত ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কির সাক্ষাৎকার, ‘অপটিমিজম ওভার ডেসপেয়ার’ বই থেকে অনুবাদিত, অনলাইন ম্যাগাজিন ‘জবান’ থেকে সংগৃহীত