কোস্টারিকার একটি প্রচলিত গল্প অনুসারে, ১৯৩০-এর দশকে সান হোসের সান সেবাস্তিয়ান নামক এলাকায় এক খামারি সেন্ট সেবাস্তিয়ান দিবসে অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য একটি দাগযুক্ত মোরগ লালন-পালন করছিলেন। স্প্যানিশ ভাষায় এ রকম মোরগকে বলা হয় গালো পিন্টো। যাহোক, ভোজের দিন ধারণার চেয়ে বেশি অতিথি চলে আসায় খামারি বুদ্ধি করে অল্প মাংসের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ভাত ও কালো শিমের বিচি একসঙ্গে মিশিয়ে ভেজে সবাইকে পরিবেশন করেন। অতিথিরা তখন মাংস না পেয়ে মজা করে এই খাবারটিকেই ‘গালো পিন্টো’ বলে ডাকতে শুরু করেন। এখন এটি কোস্টারিকার জাতীয় খাবার। অবশ্য প্রতিবেশী নিকারাগুয়া দাবি করে যে, এই খাবার তারা আরও আগে থেকে খেয়ে আসছে। কার্লোস লুইস ফায়াসের বিখ্যাত বই ‘মামিতা ইউনানি’-তে আছে, ক্যারিবীয় উপকূলের কলাবাগানে কোস্টারিকা ও নিকারাগুয়ার শ্রমিকেরা একসঙ্গে কাজ করার সময় এই খাবারটি খেতেন এবং পরে নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। কোস্টারিকানরা সালসা লিজানো নামক বিশেষ সস দিয়ে তৈরি গালো পিন্টোর সঙ্গে ডিম, ভাজা কলা, টক ক্রিম, পনির, টরটিয়া বা ঝুরা গরুর মাংসও খেয়ে থাকে।
ছবি সৌজন্য: কাসাব্লাঙ্কা কুকস