হোম > নারী

এক দিনের জন্য ঢাবি উপাচার্য হলো এইচএসসি শিক্ষার্থী শীতল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছে শিক্ষার্থী শীতল। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ‘গার্লস টেকওভার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক দিনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছে ঢাকার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শীতল। কন্যাশিশুর শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিবসটি উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দূতাবাস ও উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বের আসনে বসার সুযোগ পাচ্ছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক এ কর্মসূচির লক্ষ্য কন্যাশিশুদের নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং তাদের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া।

শীতল প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন যুব ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং নারী ও মেয়েদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক কাজে অংশ নিয়েছে। আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ ও জলবায়ুজনিত সমস্যা কীভাবে মেয়েদের সুযোগ সীমিত করে, সে বিষয়েও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছে সে।

শীতল বলে, ‘শিক্ষার সত্যি কোনো বিকল্প নেই আর এই মুহূর্তে আমাদের হাতে যে সময়টুকু আছে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। স্যারের দেওয়া উপদেশ ও শিক্ষাগুলো আমি আজীবন মনে রাখব। নিজের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোর জন্য আজ নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ মনে হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শীতলের মতো প্রত্যেক কন্যার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার দরজা খোলা রাখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকারে বিনিয়োগ একটি সমতাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি।

টেকওভার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শীতল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরে। একই সঙ্গে তরুণীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাধীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য—‘End child marriage and invest in girls’ rights’। এর অর্থ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে এবং কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছরের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের আসনে বসবে।

সংস্থাটির লক্ষ্য, মেয়েরা যেন নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারে এবং বৈষম্য ও বাল্যবিবাহের বাধা পেরিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।