হোম > নারী

নিউক্লীয় ফিশনের রূপকার লিজ মাইটনার

ফিচার ডেস্ক

বিজ্ঞানের ইতিহাস কখনো কখনো কেবল আবিষ্কারের নয়। এর মধ্যে থাকে অদম্য সততা ও মানবিকতার গল্পও বলে। ১৮৭৮ সালের ৭ নভেম্বর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জন্ম নেওয়া পদার্থবিজ্ঞানী লিজ মাইটনার ছিলেন তেমনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ১৯০৬ সালে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে দ্বিতীয় নারী হিসেবে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯২৬ সালে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্মানির প্রথম নারী পূর্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান দিয়ে তাঁর অনন্য যাত্রার সূচনা হয়।

পারমাণবিক গবেষণায় লিজ মাইটনারের অবদান যুগান্তকারী। ১৯১৭ সালে অটো হানের সঙ্গে প্রোটেক্টিনিয়াম আইসোটোপ এবং ১৯২২ সালে ‘অগার ইফেক্ট’-এর কারণ আবিষ্কার করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে হিটলারের শাসনামলে জার্মানি ছেড়ে সুইডেন পালিয়ে যেতে বাধ্য হলেও তাঁর গবেষণা থেমে থাকেনি। ঐ বছরই ভাগনে অটো ফ্রিশের সঙ্গে মিলে তিনি ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক ফিশন প্রক্রিয়ার পদার্থবিজ্ঞানগত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং এর বিস্ফোরণ ক্ষমতা উপলব্ধি করেন। ১৯৪৪ সালে এই ফিশন আবিষ্কারের জন্য অটো হান নোবেল পুরস্কার পেলেও মাইটনার বঞ্চিত হন। তবে বিজ্ঞানের ধ্বংসাত্মক ব্যবহারে তাঁর তীব্র অনীহা ছিল। ম্যানহাটন প্রজেক্টে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে যোগদানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “বোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না!”

১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর কেমব্রিজে মৃত্যুবরণ করা এই বিজ্ঞানীর স্মরণে ১০৯ নম্বর মৌলের নাম রাখা হয় ‘মেইটনারিয়াম’। জীবনদশায় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মেডেল ও এনরিকো ফার্মি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এই বিজ্ঞানীর সমাধিলিপিতে যথার্থই লেখা আছে, “একজন পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি কখনো তাঁর মানবতা হারাননি।”

সূত্র: এটমিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন

প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ রাখুন কোনো প্রমাণ মুছবেন না

অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান ও অবস্থান

শেষ কপি বিক্রি শেষেই যুক্তরাজ্যে আর মিলবে না রুনির বই

শিশুর প্রকৃত পরিচর্যাকারীকে অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি

যে বাঙালি নারীকে নোবেল মনোনয়ন দিয়েছিলেন শ্রোডিঙ্গার

শখে শেখা দরজির কাজেই শিল্পীর দিনবদল

বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক, আইন কী করবে এখন

বিষণ্নতা মনঃসংযোগে বাধা হলে কাউন্সেলিং করাতে হবে

প্রকৃতি রক্ষা ও সম-অধিকারের লড়াইয়ে গ্রামীণ নারী

সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে: সারা হোসেন