হোম > নারী

জেএনএনপিএফের মতবিনিময় সভা

‘সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কাঠামোর বৈষম্য নারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা হলেও প্রশাসন থেকে সমাজ—সব স্তরেই বৈষম্য রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। তিনি বলেন, খাদ্য, জমি ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নেই বললেই চলে। সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক কাঠামোর বৈষম্য নারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (জেএনএনপিএফ) ফোরামের আয়োজনে ‘জেএনএনপিএফ: ১৯ বছরের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও বার্ষিক সাধারণ সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরামের সেন্ট্রাল ট্রেনিং সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

২৫টি জেলার ২৬টি সংস্থার সমন্বয়ে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম গঠিত হয়েছে। এর আগে জেএনএনপিএফের সভাপতি মমতাজ আরা বেগমের সভাপতিত্বে ও একশনএইডের এলআরপির সমন্বয়ক নুরুন নাহারের পরিচালনায় জেএনএনপিএফের ১৯ বছরের কার্যাবলি নিয়ে কথা বলেন কনসালট্যান্ট কাশফিয়া ফিরোজ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএনএনপিএফের সভাপতি মমতাজ আরা বেগম, একশনএইডের ডেপুটি ম্যানেজার মৌসুমি বিশ্বাস, নারীপক্ষের সদস্য রিনা রায়।

স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শামসুল হুদা আরও বলেন, এটি প্রান্তিক মানুষ ও নারীর জন্য কার্যকর না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। সংবিধানে রাষ্ট্র জনগণের উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ যে রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা করেছিল, ৫৫ বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হলেও নিহত মানুষদের ভুলে গেলে চলবে না। নারীর অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রথম কমিশনে নারী কমিশন না থাকা এবং পরে ঐকমত্য কমিশনের প্রভাবে নারী কমিশন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, নারী কমিশনের কাজ যেন কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

সভায় জেএনএনপিএফের সভাপতি মমতাজ আরা বেগম বলেন, নারীর প্রতি নির্যাতন অতীতেও ছিল, এখনো আছে। একজন নির্যাতনকারী হঠাৎ তৈরি হয় না—পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশই তাকে গড়ে তোলে। তিনি বলেন, নারীরা আজও রাতে বের হতে ভয় পান; সমাজে এমন নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে আইনপ্রণেতা থেকে বিচার বিভাগ—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। তাঁর মতে, নিজের বিবেককে শাণিত না করলে কোনো পরিবর্তনই সম্ভব নয়।

নারীপক্ষের সদস্য রিনা রায় বলেন, ৪২৩টি সুপারিশের মধ্যে ৩টিতে আপত্তি দেওয়া হয়। এই ৩টিকে যারা আপত্তি জানিয়েছে, তাদেরকেও বাদ দিতে হবে। প্রান্তিক নারীরা একে অপরকে সম্মান দেয় না। স্বার্থ যেখানে আছে, সেখানে সবাই যায়। নিজের স্বামী সম্পত্তি নিতে চাইলেও সমস্যা হতে পারে। তাই নারীর যুদ্ধ করতে হবে।

নারীদের পাঁচ ঘণ্টা কাজের ব্যাপারে রিনা রায় বলেন, কর্মঘণ্টা কমানোর ব্যাপারে আমরা একমত নই। পরিবার ও সমাজকে নারীকে দাঁড় করানোর জন্য কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বিষয়ে যে বিষয়গুলো আঘাত করে, সেটা যারা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করে, তাদের জানাতে হবে। সংসদে নারীর আসন নিয়ে তিনি বলেন, এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে হবে, কিন্তু এটা কেউ মানে না। রাজনৈতিক দলগুলো ৫ শতাংশের বেশি দিতে চাচ্ছে না।

একশনএইডের ডেপুটি ম্যানেজার মৌসুমি বিশ্বাস বলেন, নারীর সম্পত্তির অধিকারকে রাষ্ট্র প্রায় অকার্যকর করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইন থাকলেও প্রয়োগ না হওয়ায় নারীরা তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ দানবীরের তালিকায় ৬ নারী

অন্যের মঙ্গল চিন্তা করলে নিজের কষ্ট কমে

ক্যানসারেই সব শেষ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়বেন নুহা

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার মা রিজিয়াকে ফিরে পেল সন্তানেরা

অবশেষে সৌদিফেরত রিজিয়ার পরিবারের সন্ধান মিলল, কাল হস্তান্তর

পাহাড়ের এক মৈত্রী চাকমা

নারীদের মোটরসাইকেল চালনায় বাড়ছে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

শূন্য থেকে বিলিয়ন ডলার সাম্রাজ্যের টাচস্ক্রিন কুইন

দেশে বিবাহবিচ্ছেদ তাৎক্ষণিক বা সহজ প্রক্রিয়া নয়

ভাষাকে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন জুলিয়া