প্রায় ৪৪ বছর আগে ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের হকলিতে। বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের একটি ফাঁকা জায়গায় লুকিয়ে রাখা ছিল চিঠিটি। সম্প্রতি বাড়ির সংস্কারকাজের সময় এটি উদ্ধার করেন এক নির্মাণকর্মী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, চিঠিটি পরে বাড়িটির বর্তমান বাসিন্দা মিশেল হারউডের হাতে পৌঁছায়। ৩৬ বছর বয়সী এই দাতব্যকর্মী চিঠিটি পড়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। একজন শিশুর জন্য অস্বাভাবিকভাবে ‘পরিপাটি’ হাতের লেখায় লেখা চিঠিটির লেখককে খুঁজে বের করতে তিনি স্থানীয় একটি ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপে পোস্ট দেন।
পোস্ট দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় কয়েকজন চিঠিটির লেখক হিসেবে র্যাচেল মাইলসকে শনাক্ত করেন। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী মাইলস বাকিংহামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। খবরটি জানার পর তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মাইলস জানান, ১৯৮০-এর দশকে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ব্লু পিটার’-এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে টাইম ক্যাপসুল তৈরি করার প্রবণতা ছিল। একদিন তাঁর বাবা সিঁড়ির পেছনে একটি ফাঁকা জায়গা দেখতে পান। তখনই ভবিষ্যতের কারও জন্য সেখানে একটি চিঠি রেখে দেওয়ার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর।
চিঠিটি লেখা হয়েছিল ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট। অর্থাৎ বর্তমান বাড়ির মালিক হারউডের জন্মেরও আট বছর আগে।
চিঠিটি হাতে পাওয়ার মুহূর্তকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন হারউড। তিনি বলেন, ‘টু দ্য ফাইন্ডার’—অর্থাৎ ‘যিনি এটি খুঁজে পাবেন, তাঁর উদ্দেশে’—লেখাটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এত বছর ধরে চিঠিটি সেখানে ছিল, অথচ তখন তিনি পৃথিবীতেই আসেননি—বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে।
মাইলসও পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেয়ে আনন্দিত। তিনি জানান, শৈশবের সেই সময়ের কথা মনে পড়া এবং পুরোনো পরিচিত মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের।
চিঠিতে নিজের পরিবারের কারও কথা না লিখে শুধু পোষা বিড়াল ‘কিজি’র নাম উল্লেখ করেছিলেন মাইলস। তাঁর ভাষায়, কিজি তখন ওই এলাকারই এক ‘কিংবদন্তি’ ছিল।
মজার বিষয়, হারউড ও মাইলসের জীবনেও রয়েছে কিছু অদ্ভুত মিল। দুজনেরই ওই বাড়িতে থাকার সময় বিড়াল ছিল। হারউড বলেন, লেখককে খুঁজে পাওয়ার আশা তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ ধরনের হারিয়ে যাওয়া মানুষ ও স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে।