হোম > ল–র–ব–য–হ

দিল্লিতে ‘সেরা মোটা’ পথকুকুর প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া, চলছে বিতর্কও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পথকুকুরদের নিয়ে অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন নেটিজেনরা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এখন চলছে এক ব্যতিক্রমী নির্বাচন। শহরের সবচেয়ে ‘মোটাসোটা’ বা ভারী বেওয়ারিশ কুকুরকে মুকুট পরাতে এই অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজন ঘিরে কয়েক হাজার ভোটার ও সমর্থকের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

‘ফ্যাট ডগস অব দিল্লি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে কৌতুকচ্ছলে এই প্রতিযোগিতার সূচনা হলেও তা দ্রুতই এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সামাজিক আমেজে রূপ নেয়। পছন্দের কুকুরকে বিজয়ী করতে অনুসারীরা তৈরি করছেন নির্বাচনী পোস্টার, ভিডিও ও মিম।

কয়েক ধাপের অনলাইন ভোটাভুটি শেষে আজ বুধবার এই আয়োজনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ আয়োজিত এ ধরনের নকআউট প্রতিযোগিতা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই পেজের উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতাটি শুরু করেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একটি সুন্দর সংযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে নিছক আনন্দ থেকেই বিষয়টি শুরু করা হয়েছিল।’

প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতার জন্য ৬৪টি কুকুরকে প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রথম পর্বে ৬৪টি কুকুরকে ৩২টি দলে ভাগ করে ভোটাভুটি হয়। পর্যায়ক্রমে নকআউট পদ্ধতির মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য আটটি প্রার্থী বাছাই করা হয়।

প্রতিযোগীদের নামগুলোও রাখা হয়েছে বেশ বৈচিত্র্যময়। যেমন—‘দহি ভাল্লি’ (উত্তর ভারতের একটি জনপ্রিয় খাবারের নামে), ‘মহাকুট্টেশ্বর’, ‘গুগু’, ‘রামবাবু’ এবং ‘কুট্টা সিং’।

এদের মধ্যে অন্যতম পছন্দের প্রার্থী ৪৬ কেজি ওজনের সংকর প্রজাতির কুকুর ‘গুগু’। বর্তমানে সে একটি পশু সেবা কেন্দ্রে রয়েছে এবং স্বাস্থ্যের স্বার্থে তার ওজন কমানোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সিংহভাগ কুকুরেরই নির্দিষ্ট কোনো মালিক নেই। এরা মূলত দিল্লির রাস্তার কুকুর, যেগুলোর দেখাশোনা, খাবার দেওয়া ও নামকরণের কাজটি যৌথভাবে করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, দোকানদার ও পথচারীরা।

প্রতিযোগিতা চলার সময় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মৃত্যু হলে অনুসারীরা সেগুলোর প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; কলকাতা ও কেরালার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষেরাও তাদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন।

প্রতিযোগিতার আয়োজক বিবিসিকে বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করিনি যে এই পর্যায়ে মানুষ সাড়া দেবে। বর্তমানে আমাদের যে চমৎকার কমিউনিটি গড়ে উঠেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণের জন্য দিল্লির তিনটি স্থানে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় সরাসরি ব্যালট বক্স বসানোর পরিকল্পনাও করেছেন আয়োজকেরা।

যদিও প্রতিযোগিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এর সমালোচনাও করেছেন। তাদের মতে, কুকুরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাকে উদ্‌যাপন করা হলে পশুর মালিক বা দেখাশোনা করা লোকদের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। অতিরিক্ত ওজন কুকুরদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং তাদের আয়ু কমিয়ে দেয়।

সমালোচনার বিষয়ে আয়োজক জানান, প্রতিযোগিতার এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে এখন পথকুকুরদের সহায়তায় কাজে লাগানো হচ্ছে। পেজটি থেকে বর্তমানে বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ও সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজ চলছে।

এমন এক সময়ে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দিল্লিতে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি ও এর আশপাশের অঞ্চলে আনুমানিক ১০ লাখ পথকুকুর রয়েছে। অনেক এলাকায় এদের পাড়ার পোষা প্রাণীর মতো স্নেহ করা হলেও, অন্যান্য এলাকায় কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে ভীতি রয়েছে।

গত বছর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির সব পথকুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলে পশুপ্রেমী ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নির্দেশটি সংশোধন করে বন্ধ্যাকরণ ও টিকাদানের পর কুকুরদের পুনরায় আগের এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রচারণায় অংশ নেওয়া নাগরিকদের মতে, এই প্রতিযোগিতাটি নেতিবাচক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দিল্লির মানুষের সঙ্গে পথকুকুরগুলোর মমত্ববোধ ও সহমর্মিতার সম্পর্কটিকে তুলে ধরেছে।