ভারতের হায়দরাবাদে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে হুসেইন সাগর লেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এক অটোরিকশাচালকের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডে জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে হায়দরাবাদের হুসেইন সাগর লেকে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম রুকসানা। তাকে লেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি এক অটোরিকশাচালক দেখে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন তিনি।
উদ্ধারের পর রুকসানাকে গান্ধী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ডোমালগুড়া থানার পরিদর্শক আনজান আলী জানান, অভিযুক্ত নারীর নাম শাবানা। তিনি হায়দরাবাদের ওল্ড বোয়েনপল্লির হাসমতপেট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। সংসারের খরচ জোগাতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন শাবানা।
পুলিশ জানায়, রুকসানা গত কয়েক দিন ধরে বৃহদন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছিল। তাকে একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছিল না। এদিকে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন তার মা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের অসুস্থতা ও চিকিৎসার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন শাবানা। এর মধ্যেই তিনি শিশুটিকে লেকে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ডোমালগুড়া থানার অধীন এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটিকে লেকে ফেলে দেওয়ার পেছনের পরিস্থিতি এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।