শাস্ত্রীয় সংগীত মানুষের মনকে শীতল করে। তবে গাভির দুধ উৎপাদনেও এর প্রভাব রয়েছে। আকগান নামের তুরস্কের এক কৃষকের দাবি, দুধ দোহনের সময় শাস্ত্রীয় সংগীত চালু রাখলে তাঁর গাভি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ শতাংশ বেশি দুধ দেয়।
গাভির দুধ উৎপাদনে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরাও বহু বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ২০০১ সালে লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। দুগ্ধজাত গাভির ওপর পরিচালিত এ 'মিউজিক স্টাডি'তে দেখা যায়, শাস্ত্রীয় সুর শোনার সময় গাভির শরীর শিথিল হওয়ায় বেশি দুধ পাওয়া যায়।
তুর্কি সংবাদপত্র হারিয়িয়েতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক কৃষক দুধ দোহনের স্থানে স্পিকার বসিয়ে সংগীত আয়োজন করছেন। এতে ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।
পশুচিকিৎসক মেহমেত এরকান দোগান বলেন, গাভিকে যে ধরনের খাবারই দেন না কেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মানসিক চাপ দূর করা। আর এ সংগীত থেরাপিতে কোনো খরচও হয় না। এ থেরাপিতে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গাভির পাশাপাশি দুধ উৎপাদনকারী অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এ থেরাপির পরীক্ষা চালানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। অনেকে রেকর্ডিং বাজানোর বদলে লাইভ সংগীতও আয়োজন করে থাকেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুলাইয়ে গাভির জন্য গান করেছিলেন ইতালির পশুচিকিৎসক আলফানসো কামাস। ভিডিওটি ভাইরাল হলে 'গায়ক পশুচিকিৎসক' খ্যাতি পাওয়া এ চিকিৎসকও বিশ্বাস করেন, গান প্রাণীদের শান্ত করে।