হোম > প্রযুক্তি

স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে মামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডা সরকার। দেশটির ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে একটি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে। মামলায় বলা হয়েছে, হামলাকারী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন। এ তথ্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে হামলাটি ঠেকানো সম্ভব হতে পারত।

সানফ্রান্সিসকোর একটি আদালতে করা ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে ওপেনএআই ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানকে। গত ফেব্রুয়ারিতে চালানো ওই হামলার পর প্রদেশটির পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ইতিমধ্যে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে ব্যয় হবে, তা পুষিয়ে নিতে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে মামলায়। পাশাপাশি সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন চ্যাটজিপিটি কথোপকথন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজের ওই স্কুলে হামলায় নয়জন নিহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই শিশু। হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার হামলার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে এ ধরনের সহিংসতা নিয়ে কথোপকথন চালান বলে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা দলের নজরে এসেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি।

অল্টম্যান স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে প্রকাশিত এক চিঠিতে বলেন, ওপেনএআই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ না করায় তিনি ‘গভীরভাবে দুঃখিত’। তিনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার ঘটনা যেখানে ঘটেছিল, সেই স্কুলটি বর্তমানে ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন স্কুল নির্মাণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং হামলার অন্যান্য প্রভাব মোকাবিলার ব্যয়ও প্রদেশটিকে বহন করতে হচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি টাম্বলার রিজের হামলাকে ‘বর্ণনাতীত এক ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। পুসাতেরি বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করা এবং আমাদের চলমান নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার বিষয়ে ওপেনএআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই মামলা করার আগে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের ৩০ জনের বেশি সদস্য এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ব্যক্তিরা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলা ঠেকানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তা কাজে লাগায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি ভ্যান রুটসেলার নিজের বাড়িতে তাঁর মা ও সৎভাইকে গুলি করেন। এরপর তিনি তাঁর সাবেক স্কুলে গিয়ে একজন শিক্ষাসহকারী এবং ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ভ্যান রুটসেলারের বয়স ছিল ১৮ বছর। পরে তাঁরও মৃত্যু হয়।

ওপেনএআই ২০২৫ সালের জুনে প্রথম ভ্যান রুটসেলারের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করেছিল। মামলায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানানোর সুপারিশ করেছিলেন। তবে অল্টম্যান ও ওপেনএআইয়ের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই সুপারিশ বাতিল করে দেন। হামলার পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে কথা বলা ওপেনএআইয়ের হুইসেলব্লোয়ারদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে মামলায় এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলাকারীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে এবং হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওপেনএআই জানায়, সহিংস কর্মকাণ্ডে তাদের মডেলের ‘অপব্যবহার’ শনাক্ত করে এমন ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত হয়েছিল। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড পূরণ করেনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি সহিংস কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে গত বছর ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে একটি বন্দুক হামলা-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।

জুনে প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে মামলা করে ফ্লোরিডা। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি চ্যাটজিপিটি প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। এর ফলে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়। এতে স্কুলে হামলাকারীদের তথ্য দেওয়া, নিজের ক্ষতি করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া এবং অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

ওপেনএআই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সহিংসতায় ‘অর্থবহভাবে সহায়তা’ করতে পারে এমন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোনো কথোপকথনে অন্যদের ক্ষতির ‘আসন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি’ রয়েছে বলে মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।