হোম > প্রযুক্তি

নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওপেনএআইর তিন গবেষক বরখাস্ত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারে। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও সংবেদনশীল তথ্যের অনুপযুক্ত ব্যবহারের অভিযোগে তিন গবেষককে বরখাস্ত করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। বরখাস্ত গবেষকদের অন্তত দুজন প্রতিষ্ঠানের এআই নিরাপত্তা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের কাজের মধ্যে এমন একটি প্রকল্পও ছিল, যেখানে একটি বাইরের প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল বিশ্লেষণ করছিল।

ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে সংবেদনশীল তথ্যের অনুপযুক্ত ব্যবহার করেছেন। তাঁরা আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন এবং আমাদের কাজের জন্য যে ধরনের আস্থা অত্যাবশ্যক, তা ভঙ্গ করেছেন।’

বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের নাম প্রকাশ করেনি ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির আরেক মুখপাত্র জানান, কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশ এবং তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘন করায় তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এআই নিরাপত্তা এবং এই প্রযুক্তি মানবতার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে গত কয়েক মাসে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। প্রযুক্তিটিতে আরও কঠোর সুরক্ষাব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন কিছু গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের নির্বাহী।

ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে একাধিক প্ল্যাটফর্মে সাইবার হামলা চালানোর পর প্রতিষ্ঠানটি তীব্র নজরদারির মুখে পড়ে। এসব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইটও ছিল।

জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ওপেনএআইয়ের একটি এআই মডেল ইন্টারনেটে প্রবেশ করে ওপেন সোর্স ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। ওই ঘটনার পর ওপেনএআই তাদের এআই এজেন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এসব এআই এজেন্টকে সহজ নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের সিস্টেমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অননুমোদিত কার্যক্রমের ঘটনায় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে তারা অবহিত করেছে।

তবে ওপেনএআই বলেছে, কাউকে এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করার অর্থ এই নয় যে ‘কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশ বা সংগ্রহ করা হয়েছে’ অথবা কোনো সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রপিক ছেড়ে যাওয়া গবেষক জ্যাকব কক্সন এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান জানান। অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানও এআই নিয়ে উদ্বেগ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, মেটা ও গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন। সেখানে এআই নিয়ে আলোচনা হয়।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প একটি নথি প্রকাশ করেন। তিনি এটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ একটি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার ‘একটি ব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করবে।

তবে কিছু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন ব্যক্তি এআইয়ের ওপর আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়ে আসলেও ট্রাম্প বারবার এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগকে খাটো করে দেখিয়েছেন।