কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশে ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এআই কোন কোন চাকরি পুরোপুরি বদলে দেবে বা মানুষের কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে—তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে ভবিষ্যতের কর্মজগতকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন সেলসফোর্স ও মেটার সাবেক এআই প্রধান ক্লারা শিহ।
সিবিএস নিউজের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ক্লারা শিহ বলেন, ভবিষ্যতে মূলত তিন ধরনের কর্মী দেখা যাবে—যারা এআই তৈরি করবেন, যারা এআই ব্যবহার করবেন এবং যারা এআইয়ের ব্যবস্থাপনায় কাজ করবেন।
শিহের মতে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মী ইতিমধ্যেই বাস্তবে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উবার চালক, ডোরড্যাশের ডেলিভারি কর্মী এবং ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি ও সেলস ডেভেলপমেন্ট প্রতিনিধিদের কথা উল্লেখ করেন। এসব কর্মীর কাজের বড় অংশ এখন অ্যালগরিদম ও এআই-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত বা তদারক করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ মনে করেন তারা ভবিষ্যতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে—অর্থাৎ এআই ব্যবহারকারী হিসেবে—থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে এই শ্রেণির কর্মীর সংখ্যা অনেকের ধারণার চেয়ে কম এবং তা আরও সংকুচিত হচ্ছে।
এআইয়ের প্রভাব তরুণ ও নতুন স্নাতকদের ওপর বেশি পড়ছে বলেও সতর্ক করেন শিহ। তিনি জানান, তিনি আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সেখানে এন্ট্রি-লেভেল বা নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির সাম্প্রতিক কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি দুজনের একজন হয় বেকার, নয়তো এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের ডিগ্রির প্রয়োজন নেই।
শিহ বলেন, তিনি যেসব ক্ষেত্রে এআই পণ্য ও ব্যবসা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো দেখেছে—কলেজ থেকে সদ্য বের হওয়া অনেক কর্মীর তুলনায় এআই শুরু থেকেই অনেক বেশি সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে নিয়োগের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।
এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও বড় সতর্কবার্তা দিয়ে শিহ বলেন, যথাযথ উদ্যোগ না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর বিভিন্ন খাতে সেই পরিস্থিতিই তৈরি হতে পারে, যা একসময় উৎপাদনশিল্পে ঘটেছিল।
তরুণদের পরিবর্তিত চাকরির বাজারে প্রস্তুত করতে ক্লারা শিহ ‘নিউ ওয়ার্ক ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করেছেন।