কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চলতি প্রান্তিকে মুনাফা প্রায় নয় গুণ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস।
প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ তিন মাসে তাদের পরিচালন মুনাফা বেড়ে ১০৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন বা ৮ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। এটি হবে টানা চতুর্থ প্রান্তিক, যখন প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড মুনাফা করবে।
স্যামসাংয়ের তৃতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ফলাফল অক্টোবরের শেষে প্রকাশ করা হবে। বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের ধারণা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত তাদের আর্থিক ফলাফলের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে।
স্যামসাং বিশ্বের অন্যতম বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা। এ খাতে তাদের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রনও বড় নির্মাতা। এসব প্রতিষ্ঠানের তৈরি চিপ এনভিডিয়ার মতো এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যালাক্সি ফোল্ড ও এস২৬ স্মার্টফোন নির্মাতা স্যামসাং আগস্টে বাজারে ছাড়া তাদের সর্বশেষ ফোল্ডিং স্মার্টফোনগুলোর কারণেও বাড়তি সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার চিপের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে এ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ও শেয়ারের দাম বেড়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিপের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে শেয়ারবাজারে স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার (৭৫৭ বিলিয়ন পাউন্ড) ছাড়িয়ে যায়।
চিপশিল্পে বিনিয়োগও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গুগল, অ্যামাজন ও মেটার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এ বছর এআই প্রকল্পে ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জুনে দক্ষিণ কোরিয়া আগামী কয়েক বছরে দেশটির চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কমপক্ষে ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এসব প্রকল্পে নেতৃত্ব দেবে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স।
এআইয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় জাপান, চীন ও তাইওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী এশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও চিপ কারখানায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া চিপের ঘাটতির ফলে স্যামসাংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দাম বাড়িয়েছে। এতে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের মতো পণ্যের দামও বেড়েছে।