হোম > প্রযুক্তি

এআই এবার ব্যক্তিগত সহকারী

ফিচার ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

আমরা এত দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে যেভাবে ব্যবহার করে এসেছি, তাতে বড় ধরনের একটি পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। ই-মেইলের খসড়া লিখে দেওয়া, প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কিংবা বড় কোনো লেখার সারসংক্ষেপ তৈরি করে দেওয়ার মতো কাজে আমরা এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করতাম। তবে প্রযুক্তির জগতে এখন শুরু হয়েছে এআই এজেন্টের যুগ। এআই এখন আর শুধু প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী নিজে থেকে একাধিক ধাপে কাজ সম্পন্ন করতে শুরু করেছে এআই।

চ্যাটবট ও এআই এজেন্টের মূল পার্থক্য

সাধারণ চ্যাটবট বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট নির্দেশনা পেলে উত্তর দেয়। কিন্তু এআই এজেন্ট একধাপ এগিয়ে। সে ব্যবহারকারীর হয়ে নির্দিষ্ট কাজ করে দেয়। যেমন সাধারণ বটকে একটি হোটেলের বিষয়ে জানতে চাইলে সে তথ্য দেবে। অন্যদিকে, এআই এজেন্টকে যদি বলা হয় একটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে, তবে সে ই-মেইল ও ক্যালেন্ডারের শিডিউল দেখে, পছন্দ অনুযায়ী হোটেল ও প্লেনের টিকিট খুঁজে বের করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আপনার সামনে উপস্থাপন করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে বট নির্দিষ্ট নিয়ম বা কোড অনুসরণ করে কাজ করে। এদিকে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট নির্দেশের ভিত্তিতে তথ্য খোঁজা ও লেখার কাজে সাহায্য করে।

এআই এজেন্ট যেভাবে কাজ করে

এআই এজেন্টের কাজ শেষ করার জন্য আছে চারটি প্রধান অবকাঠামো—

এলএলএম: লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল হলো এজেন্টের মস্তিষ্ক। এটি ব্যবহারকারীর দেওয়া মূল লক্ষ্যটি বুঝে সেটিকে ছোট ছোট কয়েকটি কাজের ধাপে ভাগ করে।

স্থায়ী মেমোরি ও কনটেক্সট: এজেন্টগুলো অতীত কথোপকথন এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পছন্দ সংরক্ষণ করে রাখে। ফলে প্রতিবার নতুন করে নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন: এটি একাধিক বিকল্পের মধ্যে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজে থেকে কাজের ধাপ সংশোধন করে নেয়।

টুলস ও এপিআই: বাহ্যিক অ্যাপ ও সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এজেন্টগুলো সরাসরি ক্যালেন্ডারে ইভেন্ট যুক্ত করা বা ই-মেইল পাঠানোর মতো কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

এআই এজেন্টের চারটি প্রধান ধরন

রি-অ্যাকটিভ এজেন্ট: এ ধরনের এজেন্ট মুহূর্তে লাইভ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। যেমন ব্যাংকে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হওয়ামাত্রই সতর্ক করা।

গোল-বেসড এজেন্ট: একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এরা কাজ করে। যেমন ১০ সপ্তাহে হাঁটার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা এবং প্রতিদিনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে রুটিন তৈরি করা।

ইউটিলিটি-বেসড এজেন্ট: এরা শুধু লক্ষ্য পূরণই করে না, একাধিক বিকল্পের মধ্য থেকে সেরাটি বেছে নেয়। যেমন আপনার বারান্দায় কতটুকু রোদ আসে, তা বিবেচনা করে প্রজাপতি আকর্ষণকারী সঠিক গাছটি খুঁজে বের করে দেয়।

লার্নিং এজেন্ট: এরা অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে দিন দিন আরও বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। যেমন মাইগ্রেনের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পেছনের কারণ চিহ্নিত করে।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ

এআই এজেন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিল ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সহজ করে মানুষের মস্তিষ্কের ওপর চাপ বা মানসিক ক্লান্তি অনেকটা কমিয়ে আনে। গবেষণা সংস্থা পিডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি ও প্রশাসনিক কাজে এআই সহায়তা প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারে। তবে এআই এজেন্টের হাতে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার কিংবা ব্যাংক কার্ডের অ্যাকসেস দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি। এআই ভুল নির্দেশনা বুঝতে কিংবা ভুল উত্তর তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মানবীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রযুক্তির এই বিবর্তন নির্দেশ করছে, এআই এখন আর শুধু আমাদের ভাবনার সঙ্গী নয়। এটি আমাদের প্রতিদিনের কাজ বাস্তবায়নের এক কার্যকর সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য কনভারসেশন, মেটা এআই