কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দুনিয়ায় তরুণ উদ্যোক্তা আলেক্সান্ডার ওয়াং এখন বেশ আলোচিত নাম। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ছেড়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্কেল এআই’ (Scale AI)। প্রায় এক দশক পর তাঁর প্রতিষ্ঠানে ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ধরনের আগ্রহ তৈরি করে মার্ক জাকারবার্গের কোম্পানি ‘মেটা’।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে জন্ম ওয়াংয়ের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা ও মা দুজনই পদার্থবিদ ছিলেন। তাঁরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র কর্মসূচিতে কাজ করেছেন।
পড়াশোনার জন্য ওয়াং ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স ও গণিত নিয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু ডিগ্রি শেষ করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে লুসি গুওকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্কেল এআই।
শুরুতে স্কেল এআইয়ের কাজ ছিল এআই তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সাজানো ও লেবেল করা। সহজ করে বললে, একটি এআই মডেলকে শেখানোর জন্য যে বিপুল পরিমাণ তথ্য দরকার, সেই তথ্যকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলত প্রতিষ্ঠানটি।
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় স্কেল এআইয়ের কাজের চাহিদাও বাড়ে। পরে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু করে তারা। এআই মডেল তৈরির জন্য ডেটা প্রস্তুতের পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়নের বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
এভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই স্কেল এআই বড় একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আর ওয়াং পরিচিতি পান বিশ্বের অন্যতম তরুণ বিলিয়ন-ডলার প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে।
২০২৫ সালের জুনে স্কেল এআইয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করে মেটা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। চুক্তির সময় স্কেল এআইয়ের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার।
এই বিনিয়োগের পাশাপাশি মেটার এআই কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেন ওয়াং। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আরও এগিয়ে নিতে চায় মেটা।
আলেক্সান্ডার ওয়াংয়ের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি প্রচলিত পথ অনুসরণ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যাওয়ার বদলে ১৯ বছর বয়সেই একটি নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর যাত্রা দেখিয়েছে, এআই, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত ও ডেটা নিয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ ভবিষ্যতে তরুণদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।