হোম > প্রযুক্তি

অস্ট্রেলিয়ায় শুধু আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো পর্নহাব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বয়স যাচাই সংক্রান্ত কঠোর আইনের মুখে প্রায় আট মাস প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার পর অস্ট্রেলিয়ায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘পর্নহাব’। তবে আপাতত কেবল অ্যাপল ডিভাইসের যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী ডিভাইসভিত্তিক বয়স নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, তারাই ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

আজ বুধবার পর্নহাবের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘আইলো’ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, অ্যাপলের বয়স যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স প্রমাণ করতে পারা অস্ট্রেলীয় ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট ও পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করলে পর্নহাব সে দেশে তাদের সেবা স্থগিত করেছিল।

পর্নহাবের মালিক প্রতিষ্ঠান আইলো জানিয়েছে, অ্যাপল তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ‘ডিফল্ট’ হিসেবে চাইল্ড-সেফটি বা শিশু সুরক্ষা ফিচার যুক্ত করেছে। এতে প্রতিটি আইফোন বা আইপ্যাড প্রাথমিক অবস্থাতেই শিশুদের ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে সুরক্ষিত থাকে।

ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা যাচাই করতে অ্যাপল নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে: সরকার স্বীকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট; ড্রাইভিং লাইসেন্স;

বৈধ ক্রেডিট কার্ডের তথ্য।

অ্যাপলের এই প্রযুক্তির প্রশংসা করে আইলোর ব্র্যান্ড ও কমিউনিটি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স কেকেসি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আইলো ডিভাইসভিত্তিক বয়স যাচাইয়ের পক্ষে কথা বলে এসেছে। এটিই ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতিকর উপাদান থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’

তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবহারকারীদের একাধিক থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট বা অ্যাপের কাছে নিজেদের সংবেদনশীল তথ্য দিতে হবে না। পাশাপাশি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে বয়স যাচাই আইন ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও অনেক কমে আসবে।

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ই-সেফটি কমিশন) চলতি বছরের শুরুতে নির্দেশ দেয় যে, পর্নোগ্রাফি, ‘আর-রেটেড’ ভিডিও গেম কিংবা যৌন উদ্দীপক এআই চ্যাটবটে প্রবেশের আগে ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। আইন অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধানও রাখা হয়।

সেই সময় আইলো এই আইনের বিরোধিতা করে অস্ট্রেলিয়ার বাজার থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, বিভিন্ন ওয়েবসাইটের হাতে ব্যবহারকারীদের বায়োমেট্রিক বা ব্যক্তিগত নথি তুলে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা উল্টো তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে।

ডিজিটাল অধিকার ও তথ্য সুরক্ষা গবেষকেরাও সরকারের আগের নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, ক্রেডিট কার্ড বা ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) ব্যবস্থার মাধ্যমে বয়স যাচাই করলে ডেটা হ্যাক হওয়া এবং ব্যবহারকারীদের নজরদারির আওতায় নিয়ে আসার ঝুঁকি থাকে।

অ্যাপল সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সফলভাবে ডিভাইসভিত্তিক বয়স যাচাই প্রযুক্তি চালু করার পর সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াতেও তা কার্যকর করে।

অ্যাপল ডিভাইসের মাধ্যমে বয়স যাচাই নিশ্চিত হওয়া অস্ট্রেলীয় গ্রাহকেরা এখন থেকে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর মতোই পর্নহাবে ব্রাউজ করতে পারছেন। তবে অ্যান্ড্রয়েড বা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের জন্য পর্নহাব এখনো অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর করা হয়নি। অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও অ্যাপলের মতো একই ধরনের নিরাপত্তা মানদণ্ড চালু করলে তবেই সেসব প্ল্যাটফর্মের জন্য ওয়েবসাইটটি চালু করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আইলো।