কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একঘেয়ে, গতানুগতিক ও দীর্ঘ পোস্টে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনের ব্যবহারকারীরা। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে নিম্নমানের এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হলো মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ।
সহজে ও কম খরচে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে এআই। এর ফলে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও যান্ত্রিকভাবে তৈরি লেখা। ইউটিউব, পিন্টারেস্ট ও স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মও এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য পরিচিত লিংকডইন বিশেষভাবে এই সমস্যার মুখে পড়েছে।
অনলাইনে এআই-নির্ভর কনটেন্ট পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্যাংগ্রামের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিংকডইনের দীর্ঘ লেখাগুলোর ৪০ শতাংশের বেশি এআই দিয়ে তৈরি। এক্স ও মিডিয়ামের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৩০ শতাংশ। রেডিট ও সাবস্ট্যাকে এ ধরনের কনটেন্টের হার তুলনামূলক কম।
লিংকডইনের কনটেন্ট কৌশলের দায়িত্বে থাকা প্রধান সম্পাদক ড্যান রথ সিএনএনকে বলেন—নিখুঁত বুলেট পয়েন্ট, আকর্ষণীয় শিরোনাম এবং অনলাইনে পাওয়া পরামর্শ অনুসরণ করলেই ভালো পোস্ট তৈরি হয় না। বরং মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে নিজেকে প্রকাশ করাই বেশি কার্যকর।
মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন লিংকডইন আগে পোস্ট সম্পাদনা ও পুনর্লিখনের জন্য এআই-সুবিধা চালু করেছিল। তবে সম্প্রতি এসব সুবিধার পরিসর কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রথের মতে, সব পোস্ট যদি একই রকম শোনায়, তাহলে ব্যবহারকারীরা নতুন কিছু শেখার কিংবা পেশাগত সম্পর্ক থেকে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হারাবেন। এতে অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।
এআই-নির্ভর নিম্নমানের কনটেন্ট শনাক্ত করতে গত আগস্টে পোস্টে ‘এআই স্লপ’ চিহ্নিত করার একটি বাটন চালু করে লিংকডইন। প্রথম দুই সপ্তাহেই এটি এক মিলিয়নের বেশি বার ব্যবহার করা হয়।
পাশাপাশি সাবেক সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত দল এআই মডেলকে মানসম্মত ও মৌলিক পোস্ট শনাক্ত করতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এতে নিম্নমানের কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত পোস্ট ব্যবহারকারীর প্রত্যক্ষ সংযোগের বাইরের মানুষের কাছে কম ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের নিখুঁত পোস্ট তৈরির চাপ কমিয়ে স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা ও অসম্পূর্ণ চিন্তাও প্রকাশের পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজনে সাধারণ পরিবেশে ধারণ করা ভিডিও কিংবা কথোপকথন শুরু করার মতো সংক্ষিপ্ত পোস্টও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
লিংকডইনের দাবি, তাদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এআই স্লপ হিসেবে চিহ্নিত কনটেন্টের ভিউ ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এআই ব্যবহারের বিরোধী নয়। ড্যান রথের ভাষায়, অনলাইনের তথ্যের ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়তে হলে মানুষকে আরও মানবিক হতে হবে।