সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশকে যেন সাফের ট্রফি উপহার দিতে পারি

ফিফা আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের হয়েছে ভুলে যাওয়ার মতোই। তবু টুর্নামেন্টে কিছু প্রাপ্তি ছিল টমাস ডুলির দলের। এই টুর্নামেন্টে যে তিন তরুণ ফুটবলার নজর কেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি শুকি ইতোফুসা। গতকাল দুপুরে বেরাইদে ফর্টিস ক্লাব ভবনে জাপানি ভাষায় দেওয়া শুকির সাক্ষাৎকার পর্বে বড় সহায়ক এআই ট্রান্সলেটর। বিশেষ সহযোগিতা ছিল ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের। শুকির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসেছেন এক মাস হলো। এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা কেমন?

শুকি ইতোফুসা: যেসব অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি, সেগুলো করার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে অভিষেকের পর মা-বাবা কী বললেন?

শুকি: মা-বাবা অভিষেক দেখে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তাঁরা গর্বিত। আমারও খুব আনন্দ লাগছে।

প্রশ্ন: অভিষেকে জাতীয় সংগীতের সময় কেমন আবেগ কাজ করছিল?

শুকি: বাংলাদেশের হয়ে খেলা অনুভব করেছি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে পেরে গর্ববোধ করছি।

প্রশ্ন: আগেও এসেছেন। তবে এখন খেলতে এসে বাংলাদেশের কোন বিষয় বেশি ভালো লাগছে?

শুকি: (হেসে) বাংলাদেশে পছন্দের বিষয় বলা খুব কঠিন...তবে ফর্টিস ক্লাবের সবার সঙ্গে একত্রে সময় কাটানো সবচেয়ে আনন্দের।

প্রশ্ন: ফর্টিস এফসিতে খেলছেন। তাদের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ হলো কীভাবে?

শুকি: বিভিন্ন পরিচিত মানুষের মাধ্যমে আমার কথা বলা হয়েছিল। তাদের মাধ্যমেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন: সদ্য সমাপ্ত ফিফা আসিয়ান কাপে দল খুব একটা ভালো করতে না পারলেও আপনি বেশ নজর কেড়েছেন। শুরুতেই অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা, তাই না?

শুকি: আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারিনি, সমর্থকদের ভালো ফল উপহার দিতে না পারায় সত্যি দুঃখিত। তবে নভেম্বরে আবারও ম্যাচ আছে, তাই দলকে সেরা ফর্মে ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ক্লাবে ফিরে আরও উন্নতি করে নভেম্বরে সমর্থকদের দুর্দান্ত খেলা উপহার দিতে চাই।

প্রশ্ন: ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার ওই ম্যাচে শাহরিয়ার ইমনের গোলের আগে আপনার একটা চেষ্টা ছিল। ওটাই কি বাংলাদেশ দলে সেরা মুহূর্ত?

শুকি: হ্যাঁ, জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার অবদান রাখতে পেরেছি। দল জিততে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক পারফরম্যান্স উপহার দিতে পেরে ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: জায়ান আহমেদের সঙ্গে আপনার অনেকগুলো বিল্ড-আপ ছিল। দলে এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সবচেয়ে ভালো বোঝাপড়া হওয়ার ফসল এটা?

শুকি: জায়ানের সঙ্গে বিল্ড-আপ খেলার সময় ভালো যোগাযোগ রাখি। তবে একসঙ্গে খেলার সময় খুব বেশি পাইনি। আশা করি সামনে আমাদের বোঝাপড়া আরও ভালো হবে।

প্রশ্ন: যে দলে হামজা-শমিতরা আছেন, আপনাদের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা যোগ হয়েছে। বর্তমান দলটা কি আসলেই ৯ গোল খাওয়ার দল? ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ওই ম্যাচে বড় ভুল কী ছিল?

শুকি: কঠিন প্রশ্ন...সত্যি বলতে, ওসব কথা এখন আর তেমন মনে নেই (হাসি)!

প্রশ্ন: ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় আসন্ন সাফে কি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা করতে পারে?

শুকি: হ্যাঁ, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি যেন বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিতে পারি, সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: হামজা চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম খেললেন, তাঁর কোন দিকটা বেশি ভালো লেগেছ? এই কদিনে জাতীয় দলে সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে কার সঙ্গে?

শুকি: হামজা চৌধুরীর সঙ্গে খাবার টেবিলে একসঙ্গে বসা হয়েছে। তার ব্যক্তিত্ব, চমৎকার ব্যবহার, ফুটবল ও মাঠের বাইরের জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আর জাতীয় দলে সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব জিদান (ইউসুফ), তারিক (কাজী), ফাহামিদুল (ইসলাম), ফারহান (ওয়াহিদ) ও জায়ানের সঙ্গে।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষা কিছু শেখা হয়েছে?

শুকি: সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে অল্প অল্প বাংলা শিখছি। আশা করি দ্রুত আরও ভালো বাংলা শিখতে পারব।

প্রশ্ন: সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে কি মাঠের ফুটবলের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হচ্ছে?

শুকি: ভাষা ও যোগাযোগের বিষয়টি একটু কঠিন, তবে দলের খেলোয়াড়েরা খুব সুন্দর ও সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়, তাই আপাতত সমস্যা হচ্ছে না।

প্রশ্ন: নিশ্চয় নিয়মিত বাঙালি খাবার খাওয়া হচ্ছে? বাংলাদেশের কোন খাবার বেশি ভালো লাগছে?

শুকি: হ্যাঁ, হোটেল ও দলের সঙ্গে খাবারের সময় বাঙালি খাবার দেওয়া হয়, নিয়মিত খাই। আর ফুচকা, চিকেন বিরিয়ানি সবচেয়ে পছন্দের খাবার।