ফাইনালে যেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সমীকরণ মেলাতে হতো। কিন্তু সেই সমীকরণ তো দূর থাক, রহমত শাহদের বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের হারের করুণ গল্প লিখে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের পর এবারও বাংলাদেশের হতাশার নাম হয়ে থাকল সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় তাই কোনো রাখঢাক না রেখে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন অকোপটেই। একই সঙ্গে উন্নতির তাগিদ দিলেন তিনি।
বাকি দুই সংস্করণের তুলনায় ওয়ানডেতে একটা শক্ত জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চেনা সংস্করণেই এখন বড্ড অচেনা হয়ে পড়েছে দল। চলতি বছর নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও দেশের বাইরে একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পন তারই পুনরাবৃত্তি। সব হারের পেছনে কারণ ওই একটাই—ব্যাটিং ব্যর্থতা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৭২ রানেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্রটা তো আরও ভয়াবহ। আবুধাবির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেছে দল। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান ৯৩ রানের জুটি না গড়লে বড় লজ্জার মুখেই পড়তে হতো বাংলাদেশকে।
পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে ১ বছরের কম সময় বাকি। তার আগে বাংলাদেশের এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে বৈকি। যেখানে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষেই পারফরম্যান্সের চিত্রটা বেশ মলিন, সেখানে বড় বড় দলের সামনে বাংলাদেশ কীভাবে দাঁড়াবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
মাঠের ক্রিকেটে আফগানিস্তানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পনের পর সংবাদ সম্মেলনেও নিজেদের ভুল স্বীকার করলেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন একই ভুল করছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আবারও ভুল করছি। শুরুতেই কয়েকটা উইকেট হারিয়েছি। ওইটাই আসল কারণ। টপঅর্ডারে রান করতে হবে। নাহলে আপনি টিকতে পারবেন না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’
ব্যাটাররা মুখ থুবড়ে পড়লেও কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি হৃদয়, ‘আমরা ১০০ রান কম করেছি। উইকেট খুবই ভালো ছিল।’
বাজে সময় থেকে বের হতে উন্নতির বিকল্প দেখছেন না হৃদয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে, এমনকি ফিল্ডিংয়েও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। হাতে সময় আছে। আশা করছি এটা নিয়ে কাজ করব এবং ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াব।’
হৃদয়ের এমন কথার পর ভক্তরা প্রশ্ন তুলতেই পারে, আর কত উন্নতির গল্প শোনাবে বাংলাদেশ!