জাতীয় লিগের (এনসিএল) ম্যাচ খেলতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের চার খেলোয়াড়ের আটটি লাগেজ গায়েব হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভাড়া করা কাভার্ড ভ্যানে দলের খেলোয়াড়দের ৫৪টি লাগেজ রাজশাহীতে আনা হচ্ছিল। গতকাল বুধবার সকালে কাভার্ড ভ্যানটি রাজশাহী এসে পৌঁছায়। তখন চারজনের আটটি লাগেজ পাওয়া যায়নি।
গতকাল সকালে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা বিমানে রাজশাহী আসেন। তার আগে মঙ্গলবার রাতেই তাঁদের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহীর পথে রওনা দেয় বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যান। কাভার্ড ভ্যানটি সকালে ক্রিকেটারদের হোটেলে গিয়ে পৌঁছায়। তখন ক্রিকেটাররা দেখেন তাঁদের আটটি লাগেজ নেই।
এ ঘটনায় ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসান রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেহেরবের লাগেজে পাসপোর্ট, একটি আইফোন (১৫-প্রো ম্যাক্স), ৩০০ মার্কিন ডলার এবং নগদ ৩ লাখ টাকা ছিল। ৭০ হাজার টাকা দামের তিনটি পারফিউম ও ব্যবহৃত কাপড় ছিল। আব্দুল কাদেরের লাগেজে ম্যাসাজ বেল্ট ও জুতা, মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে জেভিএল স্পিকার, ব্যবহৃত কাপড়চোপড় এবং মো. ওয়ালিদের লাগেজে কাপড় ছিল।
রাজশাহী দলের পরের ম্যাচ শুরু ১৮ অক্টোবর থেকে, বরিশালের বিপক্ষে। ম্যাচের আগে জরুরি জিনিসপত্রসহ লাগেজ গায়েব হওয়ায় মানসিকভাবে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। মেহেরব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা দ্রুত বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছি। থানায় জিডি করেছি। থানায় দৌড়াদৌড়ি করতে হলে খেলায় মনোযোগ রাখব কীভাবে?’ বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ‘সিকিউরিটি টিমকে জানানো হয়েছে। তারা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যা যা করা দরকার, করছে।’
বিভাগীয় টিমের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। ক্রিকেটারদের লাগেজ উদ্ধারের জন্য তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘থানায় জিডি হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল হয় নাটোর, নাহয় রাজশাহী জেলার মধ্যে হবে। দুই জেলা পুলিশ কাজ করছে। আমরা তাদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছি।’