বার্সেলোনার বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয়ের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন রিয়াল বেতিসের ফাকুন্দো বার্নাল। তবে ঘটনার শুরুতে তরুণ উইঙ্গারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বেতিসের ডিফেন্ডারকে ফাঁদে ফেলে পরিস্থিতি নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়েছেন ইয়ামাল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে আবদে এজ্জালজুলির গোলে ব্যবধান ৩-২ করে বেতিস। এর কিছুক্ষণ পর মাটিতে পড়ে থাকা ফেরমিন লোপেজকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বেতিসের খেলোয়াড়েরা তাঁকে তুলে দ্রুত খেলা শুরু করতে চাইলে সতীর্থের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে যান ইয়ামাল। এ সময় বার্নালের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে বার্নালকে ধাক্কা দেন ইয়ামাল। জবাবে বেতিসের এই ডিফেন্ডার বার্সা তারকাকে ধরে মাথা দিয়ে আঘাত করেন। এতে মাটিতে পড়ে যান ইয়ামাল। রেফারি রিকার্দো দে বুর্গোস বেনগোচেয়া প্রথমে ঘটনার শুরুটা দেখতে পাননি। তবে সহকারী রেফারি ও চতুর্থ কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে বার্নালকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ইয়ামাল দেখেন হলুদ কার্ড।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এস্তাদিও দেপোর্তিভোর সাংবাদিক হোসে ম্যানুয়েল কানো মনে করেন, সংঘর্ষের আগে ইয়ামালের ভূমিকাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ইয়ামালের সবচেয়ে খারাপ দিক এটাই’।
কানোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বার্নালের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর ইয়ামাল মাটিতে পড়ে গিয়ে সংঘর্ষের প্রভাব অতিরঞ্জিত করেছেন। এতে রেফারির সামনে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামাল ‘নিজের কার্ড কীভাবে খেলতে হয়, তা ভালোই জানতেন’। শেষ পর্যন্ত বার্নাল লাল কার্ড দেখলেও ইয়ামাল মাঠে থেকে যান।
আরও সরাসরি মন্তব্য করেছে মার্কা। সাংবাদিক হাইমে রিনকনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইয়ামাল বেতিসের ডিফেন্ডারকে ফাঁদে ফেলেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নালকে প্ররোচিত করতে ইয়ামালকে অত্যন্ত উত্তেজিত মনে হচ্ছিল। উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডারও সহজেই সেই টোপ গিলেছিলেন। তিনি ইয়ামালকে ধাক্কা দেওয়ার পর মাথা দিয়ে পরপর দুবার আঘাত করেন।
বার্নালের লাল কার্ডের পর লা কার্তুজা স্টেডিয়ামের দর্শকেরা ইয়ামালের প্রতিটি স্পর্শে দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। তখন বার্সেলোনা ৪-২ গোলে এগিয়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ইয়ামালকে তুলে নেন কোচ হান্সি ফ্লিক।
মার্কা ফ্লিকের এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত চাল হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণ, আসন্ন এল ক্লাসিকোর আগে নিজের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে সম্ভাব্য লাল কার্ড কিংবা চোটের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতেই তাঁকে তুলে নেন বার্সেলোনা কোচ।
সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য বদলির কারণ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘এটা পরিষ্কার ছিল যে লামিনেকে বদলি করতে হতো। আমি তাকে বলেছি, আমি তার ওপর গর্বিত এবং সে দুর্দান্ত খেলেছে।’