স্থায়ী অধিনায়ক হওয়ার পর সাহিবজাদা ফারহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান উড়ছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। তবে এখানে শ্রীলঙ্কার দায়ও কোনো অংশে কম নয়। একের পর এক ক্যাচ মিসে সিরিজটাই হাতছাড়া হয়ে গেল লঙ্কানদের হাত থেকে।
প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে হারের পর শ্রীলঙ্কার গতকাল জিততেই হতো পাকিস্তানের বিপক্ষে। টস জিতে লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। কিন্তু ফিল্ডাররা যদি একের পর এক ক্যাচ ছাড়েন, তখন কী আর করার থাকে। ব্যক্তিগত ২ রানের সময় ফারহানের ক্যাচ ডিপ মিড উইকেটে হাতছাড়া করেন মাহিশ তিকশানা। যদিও সেটা কঠিন ছিল। সেবার বোলার ছিলেন বিনুরা ফার্নান্দো। এরপর নুয়ান তুষারার বলে সিনেথ জয়াবর্ধনা সহজ ক্যাচ মিস করে ফারহানকে জীবন দেন। দ্বিতীয় দফায় জীবন পাওয়ার সময় ফারহানের স্কোর ছিল ১১।
মাজ সাদাকাতও দুইবার জীবন পেয়েছেন। ব্যক্তিগত ৪৪ রানের সময় তিনি তুষারার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। তবে লঙ্কান পেসার কট এন্ড বোল্ড সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপর সাদাকাতের রান যখন ৬৬, তখন ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি। এবার বোলার ছিলেন ইশান মালিঙ্গা। জোড়া জীবনের সুযোগ সাদাকাত, ফারহান দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন। ফারহান ১৬৫.৯১ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৭৩ রান। সাদাকাত ৫১ বলে করেন ৯৬ রান।
রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮২ রানে জিতে পাকিস্তান গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে। হারের পর লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস বাজে ফিল্ডিংকেই দায়ী করেছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পাওয়ারপ্লেতে পেসাররা দারুণ বোলিং করেছে। এরপর আমরা কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছি। বোলারদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। তবে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো শোধরাতে হবে।’
শ্রীলঙ্কার পিচ্ছিল ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ২১৫ রান করেছে। জয়ের লক্ষ্যে নেমে লঙ্কানরা ১১.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হয়। হাতে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ ৪৯ বলে ১৪২ রানের সমীকরণ মেলানো তো দূরে থাক, ধারেকাছেও যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৩ রানে আটকে যায় সফরকারীরা।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে তিকসানার ব্যাটিংয়ে। প্রথম সারির ব্যাটারদের মধ্যে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৯ রান করেন। এই ৯ রান করতে খেলেছেন ১৫ বল। ওপেনার সিনেথ জয়াবর্ধনে করেন ২২ রান। মিডল অর্ডারে কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। ৮২ রানে হারের ব্যাখ্যায় লঙ্কান অধিনায়ক বলেন, ‘আমাকেসহ সব ব্যাটারকেই দায় নিতে হবে। উইকেট ব্যাটিংয়ের উপযোগী ছিল। আমাদের অন্তত ২০০ রান করা উচিত ছিল।’
গতকাল ২১৫ রান করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮ উইকেটে ২১২ রানই ছিল পাকিস্তানের এই সংস্করণে লঙ্কানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। এবার প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি হেরে শ্রীলঙ্কা এখন ধবলধোলাইয়ের আশঙ্কায়। আগামীকাল রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।