হোম > খেলা > ক্রিকেট

শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে দিলেন রহমত শাহ

ক্রীড়া ডেস্ক    

হার না মানা ৮৪ রানের ইনিংস খেলার পথে রহমত শাহ। ছবি: এসিবি

ব্যাটিংয়ে ভালোই জবাব দিচ্ছে আফগানিস্তান। তাতে দিনটা প্রত্যাশামতো শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তান ৪ উইকেটে তুলেছে ২১৪ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৩৫ রানে পিছিয়ে থাকলেও আফগানদের হাতে অক্ষত ৬ উইকেট।

আফগানিস্তান ইনিংসের শুরুতে প্রত্যাশা মতোই দুই উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর রহমত শাহ-আবদুল মালিকের প্রতিরোধ। পরে সে প্রতিরোধও ভেঙে ফেলে বাংলাদেশ। চা বিরতির পর তুলে নেয় আরও দুই উইকেট। কিন্তু তারপরও দিনটিকে নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। করতে দেননি রহমত শাহ। ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন, দলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বড় স্কোরের।

একটা দুশ্চিন্তা নিয়েই চা বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৩০ ও ৬৪ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (১৭) ও শহীদউল্লাহকে (২০) ফিরে গেলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ওপেনার আব্দুল মালিক ও রহমত শাহ। দেখে শুনে খেলে উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা নিয়েই ব্যাট করছিলেন তারা। চা বিরতির আগে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটি বেশ ভাবিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশকে। স্কোরবোর্ডে আফগানদের রান তখন ২ উইকেটে ১৩১।

আতালকে ফিরিয়ে আফগানিস্তাকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। এরপর ইবাদত ফেরান শহীদুল্লাহকে। তবে মালিক ও রহমত শাহর জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে উল্টো বাংলাদেশকে চাপে ফেলার মতো একটা অবস্থায় চলে আফগানিস্তান। এখান থেকে জুটিটি তাঁরা চালিয়ে গেলে নির্ঘাতই চাপে পড়ে যাবে দল! এমন একটা উৎকণ্ঠা কি কাজ করেনি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যে! করলেও সেটি স্থায়ী হতে দেননি তাঁর বোলাররা। আরও ভালোভাবে বললে ইবাদত হোসেন। শহীদউল্লাহকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, সেই ইবাদতই চা বিরতির পর প্রথম ইনিংসেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার আবদুল মালিককে। অফ স্টাম্পের একটু বাইরের একটু ফুল লেন্থের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে বলে ঠিকমতো খেলতে পারেননি মালিক। তাঁর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ছিন্ন হয় ৭০ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ১২০ বলে ৬২ রান করেন মালিক।

এক ওভার পরই মালিককে অনুসরণ করেন হাসমতউল্লাহ শহীদি। তাঁকে ফেরান মেহিদী হাসান মিরাজ। তাঁর বাড়তি বাউন্সের এক ডেলিভারি পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন হাসমতউল্লাহ। বল গ্লাভসে জমিয়েই বেলস ফেলে দেন লিটন দাস। ২ বল খেলে শূন‍্য রানে ফেরেন তিনি। মাত্র ৫ বলের ব্যবধানে দুই আফগান ব্যাটারের বিদায়ে বড় স্বস্তি নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। ১৩৩/২ থেকে আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায়—৪/১৩৯।

এরপর অবশ্য রহমতশাহ ও ইকরাম আলিখিলের প্রতিরোধ। ১৯৪ বল খেলে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি তাঁদের। চতুর্থ উইকেট পতনের পর ৩২. ২ ওভার ব্যাটিং করেছেন তাঁরা। তাতে বল কুড়োতেই শেষ বিকেলটা পার করতে হয়েছে বাংলাদেশ ফিল্ডারদের। টেস্ট মেজাজ দেখিয়েই ব্যাটিং করছেন রহমত শাহ। ১১২ বলে ফিফটি ছুঁয়ে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। ১৮৬ বলে খেলা তাঁর ইনিংসটিতে আছে ৮টি চার ও ১টি ছয়। তাঁর সঙ্গী ইকরাম আলিখিল অপরাজিত আছেন ২৬ রানে।

এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ৩৪৬ রানে। আগের দিনের ৩১৭/৮ স্কোর নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেছিলেন অপরাজিত দুই ব্যাটার নাঈম হাসান (১১*) ও তাইজুল ইসলাম (৪*)। আট নম্বরে উইকেটে আসা নাঈম হাসান এদিন আরও ২৪ রান যোগ করে অপরাজিত থাকেন। ৬৭ বলে খেলা তাঁর ৩৫ রানের ইনিংসে আছে ৪টি চার। টেস্টে এটাই নাঈমের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। আগের সেরা ছিল ২৬ রান। নবম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ৩০ এবং শেষ উইকেট জুটিতে এবাদত হোসেনের সঙ্গে ১১ রান যোগ করেন নাঈম। এদিন আফগানদের শিকার হওয়ার আগে আগের ৪ রানের সঙ্গে এদিন আরও ৫ রান যোগ করেন তাইজুল। শেষ দুটি উইকেট হারানেরা আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করে ৮.৩ ওভার।