চট্টগ্রাম থেকে নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাব—গুগল ম্যাপসে দূরত্ব দেখাচ্ছে ৪৫৮০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের মতো নেপাল-আফগানিস্তানও ক্রিকেটে মুখোমুখি হলো দীর্ঘ ১২ বছর পর। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এশিয়ান গেমসেও নেপালের কাছে হেরে গেল আফগানরা।
বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম এক পরাশক্তি হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান। আইসিসি ইভেন্টেও বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোকে তারা হারিয়ে দেয় বলে কয়ে। সেই তুলনায় নেপাল তো তাদের কাছে ‘ডালভাত’ প্রতিপক্ষ। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে আফগানরা তুলনামূলক দুর্বল দল পাঠালেও তাদের ক্রিকেটাররা যেকোনো কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে। তবে নেপাল আজ নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে।
১০৩ রানের লক্ষ্যে নেমে নেপাল সাবলীলভাবে খেলতে থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৫৬ রানে পরিণত হয় দীপেন্দ্র সিং ঐরির নেতৃত্বাধীন নেপাল। যার মধ্যে নেপালের দুই ব্যাটার সন্দ্বীপ জোরা (৩৪) ও কুশল মাল্লা (৯) হয়েছেন রানআউট।
সাময়িক চাপে পড়া নেপাল উদ্ধার হয়েছে ঐরি ও রোহিত পাউডেলের জুটিতে। পঞ্চম উইকেটে তাঁরা (ঐরি-রোহিত) গড়েন ৪৩ বলে ৪৬ রানের জুটি। জয়ের জন্য যখন ১ রান দরকার, তখন আউট হয়ে যান। ১৮ বলে কোনো চার-ছক্কা ছাড়াই করেন ১৫ রান। গুলশান ঝা নেমে ১ রান নিয়ে নেপালকে ১৬ বল হাতে রেখে এনে দেন ৫ উইকেটের জয়।
নেপালের ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন জোরা। ৩৫ বলের ইনিংসে মারেন ৩ চার ও ১ ছক্কা। রোহিত ৩২ বলে ৪ চারে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। আফগানিস্তানের আব্দুল্লাহ আহমাদজাই, ফরিদুন দাউদজাই ও আরব গুল একটি করে উইকেট পেয়েছেন।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে আফগানিস্তান ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করেছে ১০২ রান। ফয়সাল খান আহমাদজাই, নাজিবুল্লাহ জাদরান উভয়ই সমান ৩০ রান করেন। অধিনায়ক দারউইশ রাসুলি গোল্ডেন ডাক মেরেছেন। নেপালের কুশল ভুর্টেল ৪ ওভারে ২১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন। ললিত রাজবংশী পেয়েছেন ৩ উইকেট। তিনি ৪ ওভারে ১৩ রান খরচ করেছেন।
এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান-নেপাল ক্রিকেটে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে। সেই দুই ম্যাচই টি-টোয়েন্টি। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নেপাল জিতেছিল ৯ রানে। এবার এশিয়ান গেমসে নেপাল জিতল হেসেখেলে।