হোম > খেলা > ক্রিকেট

সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা শান্তর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে হতাশ শান্ত। ছবি: এসিবি

চতুর্থ দিন শেষেই আবুধাবি টেস্টের নাটাই পুরোপুরি ছিল বাংলাদেশের হাতে। রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের শেষ দিনে দরকার ছিল ৩৪৭ রান, হাতে ৭ উইকেট। জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল হলেও পঞ্চম দিনের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে প্রাপ্তি কেবলই একরাশ আক্ষেপ। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে টেস্ট ড্র করে মাঠ ছেড়েছে আফগানরা। হাতের মুঠো থেকে এমন জয় ফসকে যাওয়ায় ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে ঝরল হতাশা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্ত অকপটেই স্বীকার করলেন নিজেদের ভুলের কথা। ম্যাচ নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব হতাশাজনক। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭টি উইকেট। কিন্তু সকালের সেশনেই শুরু হয় সুযোগ নষ্টের মহড়া। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে সেদিকুল্লাহ আতালের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান তামিম, তখন আতালের রান ছিল মাত্র ৩৭। এরপর ৭০ রানে থাকার সময় তাঁকে স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বারবার জীবন পেয়ে সেই আতালই ৩৩২ বলে ১১১ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ের পথ আটকে দেন।

শেষ সেশনেও ভুল থেকে বের হতে পারেনি দল। আতাল ফেরার পরও ম্যাচের বাকি ছিল ২১ ওভার। কিন্তু ১২২ তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ফিল্ডাররা। এরপর হাসান মাহমুদ ফসকান কায়েস আহমেদের সহজ ক্যাচ। সেই কায়েসই অপরাজিত ৪৯ রান করে আফগানদের ম্যাচ বাঁচিয়ে দেন।

নিজেদের সুযোগ নষ্টের আক্ষেপের পাশাপাশি অবশ্য প্রতিপক্ষের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান সত্যিই অসাধারণ খেলেছে। তারা দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে।’

বোলারদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে পেসারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও স্পিনারদের নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তির সুর পাওয়া গেল অধিনায়কের কথায়, ‘আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো কাজ করেছে। আশা করেছিলাম শেষ দিনে স্পিনাররা খেলায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে। তারা চেষ্টাও করেছে, তবে আফগান ব্যাটাররা দারুণভাবে সামাল দিয়েছে।’

হতাশার ড্রয়ের ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি ছিল লিটন দাসের পারফরম্যান্স। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ১৫৫ রান (৫৩ ও ১০২) এবং উইকেটের পেছনে রেকর্ড ৯টি ডিসমিসাল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। লিটনের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘লিটন যেভাবে খেলেছে তা অবিশ্বাস্য। কেবল এই ম্যাচেই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই ও উইকেটের পেছনে দারুণ করছে। এমন প্রচণ্ড গরমে টানা ১৪০ ওভার কিপিং করা বড় মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়।’