আর্থিক সংকট সামাল দিতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লুআই)। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ক্রিকেটারদের ১২ মাসের চুক্তি বহাল থাকলেও কমবে চুক্তির আর্থিক মূল্য।
ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছে সিডব্লুআই। তাঁদের রিটেইনার চুক্তির মেয়াদ ১২ মাস থেকে কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে এই নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
সিডব্লুআইয়ের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেহরিং জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেহরিং বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রিকেটারদের সহযোগিতার মনোভাবকে আমরা মূল্যায়ন করি। আমরা সবাই যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তারা সেটি বুঝেছেন। এটি আদর্শ কোনো পদক্ষেপ নয়, তবে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।’
শুধু ক্রিকেটারদের বেতন কমিয়েই থামছে না সিডব্লুআই। ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের খরচ কমাতেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। চলতি বছরের পুরুষদের সুপার৫০ ও নারীদের টি টোয়েন্টি ব্লেজ স্থগিত করেছে বোর্ড।
সিডব্লুআই জানিয়েছে, ঘরোয়া ক্রিকেটের বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল ও আয়োজনের খরচ দীর্ঘদিন ধরে বোর্ডকেই বহন করতে হয়েছে। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এই কাঠামো আর টেকসই নয়।
ডেহরিং বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর ঐতিহাসিক কাঠামো এমন যে, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতিটি জাতীয় দল ও টুর্নামেন্টের পুরো খরচ বহন করে। বয়সভিত্তিক, উন্নয়নমূলক কিংবা পুরুষ ও নারী দলের সিনিয়র ক্রিকেট, সব ক্ষেত্রেই বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল ও আয়োজনের খরচ আমাদের বহন করতে হয়। এই ব্যবস্থা আর টেকসই নয়।’
ঘরোয়া ভ্রমণের খরচকেও বড় বোঝা হিসেবে দেখছে সিডব্লিউআই। ডেহরিং জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে ঘরোয়া বিমান সংস্থাগুলোর পেছনে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করেছে বোর্ড। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো স্পনসরশিপ পায়নি তারা।
আর্থিক চাপ সামাল দিতে গত জুলাইয়ে আইসিসির কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ সুবিধাও নিয়েছে সিডব্লিউআই। আগামী এক বছরে তিন ধাপে এই অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঋণের অর্থ পেতে বোর্ডকে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হবে।
সুপার৫০ স্থগিত হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে দলের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়বে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি তারা। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলতে হবে ক্যারিবীয় দলকে।
সেই প্রস্তুতির জন্য নভেম্বরে ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে সাদা বলের কয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করবে সিডব্লুআই। এরপর ওয়ানডে দলের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে আগামী বছরের নারী সুপার৫০ আয়োজনের পরিবর্তে একটি বেস্ট বনাম বেস্ট উন্নয়নমূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে সিডব্লুআই। চার দিনের ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপ অবশ্য ২০২৫ থেকে ২৬ মৌসুমের ১২ ম্যাচের কাঠামোতেই চলবে।
আর্থিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতিতেও নতুন কাঠামো এনেছে সিডব্লুআই। স্থগিত সুপার৫০ ও টি টোয়েন্টি ব্লেজের পরিবর্তে অলিম্পিকের জন্য আলাদা বাছাই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে তারা। এসব টুর্নামেন্টের খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড।