মাঝখানে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সফরে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বটে; কিন্তু সেই সফরের আগে ও পরে রঙিন পোশাকে দলের পারফরম্যান্স বড়ই ধূসর। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিন ওয়ানডের সিরিজ বাংলাদেশ হারে ২-১ ব্যবধানে। আর অস্ট্রেলিয়া সফরের পর এশিয়াড ক্রিকেটে ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী। পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর ‘আনকোরা’ লঙ্কান দলের কাছেও হেরেছে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে।
এই ব্যর্থতা কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে আজ বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। তিন জাতি ওয়ানডে সিরিজের বাকি দলটি আফগানিস্তান।
আইসিসির দলগত ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এই তিন দলের মধ্যে এগিয়ে আফগানিস্তান। ৮ নম্বরে অবস্থান তাদের। ৯ নম্বরে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ের অবস্থান ১১ নম্বরে। জিম্বাবুয়ের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকেও গত জুলাইয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল আরও বাজে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া তিন ওয়ানডের সিরিজে আফগানদের কাছে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। তাই আজ শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশকে নিরঙ্কুশ ফেবারিট ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও দৃঢ়তার ছাপ। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ধবলধোলাই হলেও তিন ম্যাচে দৃঢ়তাপূর্ণ পারফরম্যান্স ছিল তাদের। শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল প্রায়। তবে প্রতিপক্ষরা যে যেমনই হোক না কেন, টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের। দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ দেখছেন—এমন প্রশ্নে অধিনায়কের উত্তর, ‘অবশ্যই।’ তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ভালো খেলার কথা বললেন লিটন, ‘আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলি; তবে কেন (চ্যাম্পিয়ন হওয়া) নয়?’
এই তিন জাতি সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে দলের স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হচ্ছে লিটনের। এর আগেও ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দিলেও আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় লিটনের কাঁধে দেওয়া হয়েছে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বের ভার। তাঁর প্রতি বিসিবি যে আস্থা রেখেছে, সেটার প্রতিবেদন দিতে চান লিটন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। আমাদের সামনে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ আছে। এশিয়া কাপ আমাদের দেশেই (বাংলাদেশে) খেলা হবে। আমার মনে হয় প্রস্তুতির জন্য এটাই সেরা সময় ও সেরা মঞ্চ। কারণ, এশিয়া কাপে পাঁচ বা ছয়টি দল খেলে, আর ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলছে তিনটি দল। পরিবেশ ও চাপের জায়গাটা প্রায় একই রকম থাকে।’
ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। শেষ দুই দিন প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখলেও জিততে পারেনি দল। তবে আবুধাবিতে টেস্ট খেলাটা স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কাজে এসেছে দলের। এখানকার উইকেট সম্পর্কেও একটা ধারণা পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটন বললেন, ‘উইকেটে (টেস্টের চেয়ে) খুব একটা আলাদা হওয়ার কথা না, যেহেতু কন্ডিশনটা একই রকম। ধারণা করেছিলাম যে মাঝের উইকেটে খেলা হবে, কিন্তু কিউরেটর পাশের উইকেটগুলো খেলার উপযোগী করে করে তৈরি করেছে। আশা করি উইকেট ভালো হবে এবং সব দিক থেকে সমান আচরণ করবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের পেসাররা ভালো করলেও ব্যতিক্রম ছিল এশিয়াড ক্রিকেট। বিশেষ করে ‘অচেনা’ ছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। স্কোয়াডে থাকলেও তাঁকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি টিম ম্যানেজমেন্ট নেয় কি না, এখন এটাই দেখার। চোটের কারণে নাহিদ রানা ছাড়া নিয়মিত পারফরমারদের সবাই আছেন দলে। ফলে বোলিংয়ে কাকে রেখে কাকে বাদ দেওয়া হবে—এমন একটা মধুর সমস্যায় বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো, সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর স্পিনার আলিস আল ইসলামকেও দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ একাদশে। তাঁকে নিয়ে লিটন বললেন, ‘আলিস সাদা বলের ক্রিকেটে অনেক ভালো। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময় তাকে দলের সাথে যুক্ত করার।’
তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকার ওপেনিং করতে পারেন। মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। লোয়ার অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ থাকাটা দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়েছে। আগের দিন মিরাজ জ্বর অনুভব করলেও ম্যাচে তাঁকে পাওয়া নিয়ে আশবাদী লিটন, ‘যতটুকু জানি ও কিছুটা জ্বরে ভুগছে। আশা করছি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলতে পারবে।’
সব মিলিয়ে জয় সহজ প্রত্যাশা বাংলাদেশের। অধিনায়ক লিটন সেটা বললেনও। জিম্বাবুয়ের কাছে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ হারের প্রসঙ্গ ধরে বললেন, ‘আগে যা হয়েছে, সেটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু সব সময় তা নিয়ে ভাবলে চলবে না যে আমরা আগে খারাপ খেলেছি, তাই এখনো খারাপ খেলব। মানসিকতা সব সময় ইতিবাচক থাকবে এবং আমরা ইতিবাচকভাবে খেলার চেষ্টা করব।’