ক্যাচ ধরার পর শূন্যে উড়ছেন হারমানপ্রীত কৌর। তাঁর সঙ্গে উড়ছে ভারতীয় ক্রিকেট দলও। ঘটনাটা গত বছরের নভেম্বরে ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর। যে হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে ভারত ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে, এখন থেকে আর তিনি অধিনায়ক থাকছেন না।
সামাজিক মাধ্যমে আজ দীর্ঘ এক পোস্টে নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন হারমানপ্রীত। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমি সব সংস্করণে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিচ্ছি। এটা সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন কিছু মুহূর্ত, যা সারাজীবন আমার সঙ্গে থেকে যাবে।’
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি মিতালি রাজ। তাঁর অবসরের পর হারমানপ্রীত ভারতের ওয়ানডে, টেস্টে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে থেকেই ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০১২ থেকে শুরু করে ২০২৬ পর্যন্ত ১৫৫ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, ৫১ ওয়ানডে ও ৫ টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন। সবশেষ নারী এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ভারত সোনা জিতেছে তাঁর নেতৃত্বেই।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন হারমানপ্রীত। ৩৭ বছর বয়সী নারী ক্রিকেটার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘ভারতীয় নারী ক্রিকেটের জন্য আমার যা কিছু ছিল, সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। এমনকি অনেকবার নিজের খেলা এবং ব্যক্তিগত স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষাও বিসর্জন দিতে হয়েছে। দিয়েছি। এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন আমাকে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, নিজের উন্নতি এবং নিজের জন্য যা চেয়েছিলাম, সেসব একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। কারণ, আমি বিশ্বাস করতাম দলের স্বার্থই সবার আগে।’
ভারতীয় দলে নিজের অধিনায়কত্বের মূল্যায়ন করতে গিয়ে হারমানপ্রীত বলেন, ‘একজন অধিনায়ক হিসেবে আমাকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমন অনেক সিদ্ধান্ত সব সময় সবাই বুঝতে পারেনি। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। কখনো কখনো এটার জন্য আমাকে অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। কিন্তু আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল—এই দলকে আরও ভালো করে তোলা এবং অন্য খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠা, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং নিজেদের সেরাটা বের করে নিয়ে আসা।’
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন হারমানপ্রীত, ‘অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ। তবে পথচলা অব্যাহত থাকবে। এখন আমি আবারও শুধু ক্রিকেটের ভালোবাসার টানে খেলতে প্রস্তুত।’