এনসিসিআইএর চলমান তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনুমতি পাননি তিনি। দুইবার আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে জিও নিউজ।
সূত্রের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের পর মুঠোফোন জব্দের ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন রিজওয়ান। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে পাঠানো চিঠি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে চেয়েছিলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় চুক্তির বিধান মেনেই পিসিবির কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে দুইবারই তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয় বোর্ড। চুক্তির ৪.১ ধারা অনুযায়ী, চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার আগে খেলোয়াড়কে অনুমতি নিতে হয়।
সূত্র জানিয়েছে, রিজওয়ান চুক্তির ১৬ নম্বর ধারা অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। এই ধারায় পিসিবি ও খেলোয়াড়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দেয়নি বোর্ড।
সূত্রের দাবি, পিসিবি কিংবা অন্য কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার উদ্দেশ্য ছিল না রিজওয়ানের। বরং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে জনসমক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন তিনি।
লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ানের মুঠোফোন জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিসিআইএর তদন্ত চলছে। গত সপ্তাহে লাহোর হাইকোর্টে এক শুনানিতে রিজওয়ানের আইনজীবী কাজি উমায়ের আলী জানান, টেস্টের পর তাঁকে একটি হোটেলের লবিতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
আইনজীবী জানান, তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সেটি জব্দ করে কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো ফোনটি ফেরত পাননি রিজওয়ান।
এর আগে ফোন জব্দের বিষয়ে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের (এসিইউ) কাছেও পরামর্শ চেয়েছিলেন রিজওয়ান। আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন কি না, অথবা তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ফোন জব্দ, হস্তান্তর ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার।
পাকিস্তানের ক্রিকেটে অনলাইন বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এনসিসিআইএর তদন্ত চলছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তান দলের ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগের সঙ্গেও তদন্তটিকে যুক্ত করেছে বিভিন্ন প্রতিবেদন।
চলতি মাসের শুরুতে লাহোরে এনসিসিআইএর সামনে হাজির হয়েছিলেন রিজওয়ান ও বাঁহাতি ওপেনার ইমাম উল হক। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের কারও বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত কোনো ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি সংস্থাটি।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর পাকিস্তানের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম উল হক।