ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট-শর্ট থার্ড ম্যানের মাঝখান দিয়ে চার মারলেন লিটন দাস। সীমানার দড়ি স্পর্শ করতেই লিটন ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিলেন। হেলমেটে দিলেন চুমু। তিনবারের দেখায় টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবারই প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। আউটের পর তাঁকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডাগআউট থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস ঘোষণা করলেন। আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েই থেমে গেল বাংলাদেশ।
টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটা ২৩ বছর ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলেই। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয়ে বিশ্ব রেকর্ডটা নিজের নামে লিখে নেয় উইন্ডিজ। এখন পর্যন্ত টেস্টে ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি চারটি। সবশেষ ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪১৪ রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জেতে ভারত।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শুরুর সাত ওভারের মধ্যে দুইবার জীবন পান লিটন। যার মধ্যে ৭৫তম ওভারের শেষ বলে আফগান লেগস্পিনার কায়েস আহমেদকে কাট করতে যান লিটন। এজ হওয়া বল স্লিপে যখন মিস করেন শাহিদুল্লাহ কামাল, তখন লিটনের রান ১৪।
চার ওভার পর সেই কায়েসের বলে ফের জীবন পান লিটন। ৭৯তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটন সোজা ড্রাইভ করেন। ডান দিকে ঝুঁকেও কট এন্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করেন আফগান লেগস্পিনার। বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটারের রান তখন ২৬। দুই দফা জীবন পেয়ে সেটা দুহাত ভরে লুফে নিয়েছেন। বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রান করেছেন অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক।
বাজে বল পেলে লিটন সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। কখনো কখনো আফগান ফিল্ডাররা ডাইভ দিয়েও বল থামাতে পারেননি। ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়ে কখনো সেটা লিটনের স্টাম্পের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। শুধু লিটনই নয়, মিরাজের বিপক্ষেও আউটের আবেদন করেছিল আফগানিস্তান। ৯৫তম ওভারের পঞ্চম বলে জিয়াউর রহমানকে স্লগ সুইপ করতে যান মিরাজ। এজ হওয়া বল স্লিপে থাকা ফিল্ডার ডাইভ দিয়ে ধরেছেন। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় আফগানিস্তান দলে দেখা গেছে হতাশা। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মিরাজের গ্লাভসের ওপরের অংশে লেগেছে।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় ৯৮ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান করে বাংলাদেশ। লিটনের রান ছিল তখন ৮১। সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে দরকার ছিল ১৯ রান। ১০৫তম ওভারের পঞ্চম বলে কায়েস আহমেদকে কাট করে চার মেরেই তিন অঙ্ক ছুঁলেন লিটন। ১১৫ বলে পেলেন সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর আর কোনো রানই যোগ করতে পারেননি লিটন। ১০৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সেলিমের শিকারে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার। আউট হওয়ার পর লিটনের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল নিজের শট নির্বাচন নিয়ে কতটা হতাশ তিনি। তখন ডাগআউট থেকে ভেসে আসে মুহুর্মুহু করতালি। ১১৭ বলে ১৪ চারে ১০২ রান করে আউট হয়েছেন লিটন।
লিটনের বিদায়ে ভেঙে যায় সপ্তম উইকেটে তাঁর সঙ্গে মিরাজের ২০১ বলে ১৪৯ রানের জুটি। বাংলাদেশ ১০৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করে ঘোষণা করা হয় ইনিংস। মিরাজ ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। আফগানিস্তানের সেলিম, ইয়ামিন আহমাদজাই, জিয়াউর রহমান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
টেস্ট ইতিহাসে ৪০০ রান তাড়া করে জয়ের অপর দুই রেকর্ড অনেক পুরোনো। পোর্ট অব স্পেনে ৪০৪ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৭৬ সালে জিতেছিল ভারত। এর আগে ১৯৪৮ সালে লিডসে সমান ৪০৪ রান তাড়া করেই জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার অজিদের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড।