পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হারায় আগেই সোনার আশা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। এরপরও পদক নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ ছিল লিটন দাসের দলের সামনে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরে খালি হাতেই এশিয়ান গেমস শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।
এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬৫ রান করে লঙ্কানরা। জবাবে ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এর মধ্যে প্রথম তিন ব্যাটার (সাইফ হাসান, তানজিদ, লিটন) রানের খাতাই খুলতে পারেননি। শুরুর এই ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
পঞ্চম উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন ইয়াসির আলী রাব্বি। ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করে ফেরেন ইমন। তাঁর ২৬ বলের ইনিংস ব্যাটিং ধস সামলে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ইমনের বিদায়ের পর আর কেউ শ্রীলঙ্কার বোলারদের ভয় ধরাতে পারেননি। এই জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ১৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২১ রান করেন রাব্বি। সর্বোচ্চ ২৬ রান করতে ২৮ বল খেলেন নাসুম আহমেদ।
বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেওয়ার পথে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্নায়েকে, বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে রত্নায়েকে ও সাহান আরাচ্চিগের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। টস জিতে তাদের শুরুটাও ভালো হয়নি। ১০.৫ ওভারে ৫৪ রানে ইনিংসের অর্ধেক হারায় লঙ্কানরা। তখন মনে হচ্ছিল তাদের হাতের নাগালেই বেধে রাখতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেট সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দেন রত্নায়েকে ও আরাচ্চিগে। দুজন মিলে ৯৩ রান যোগ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ধরা পড়ার আগে ৬৫ রান এনে দেন রত্নায়েকে। তাঁর ৩২ বলের ইনিংস সাজানো ৭ চার ও ৫ ছক্কায়। ৩৩ রান করতে ৩৭ বল খেললেও আরাচ্চিগের ইনিংসটিও শ্রীলঙ্কার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২ উইকেট নিলেও ৩ ওভারেই ৪৩ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ওভারে ৪২ রান দিয়ে বাংলাদেশের হারের কারণ হয়েছিলেন কাটার মাস্টার। বল হাতে আরও একটা বাজে দিন পার করলেন তিনি। রিশাদও বেশ খরুচে ছিলেন। ৪ ওভারে ৪৬ রান দেন এই লেগস্পিনার।