রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অপেক্ষায় ছিলেন, কখন শুরু করবেন উদ্যাপন। অবশেষে ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডিপ মিড উইকেটে এস এম মেহেরব ক্যাচ ধরতেই শুরু হয় উদ্যাপন। চট্টগ্রাম রয়্যালসকে উড়িয়ে ২০২৬ বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
২০২৬ বিপিএল ফাইনালের আগে তেমন কোনো উত্তাপ ছিল না বললেই চলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা এতই হয়েছে যে, বিপিএল আড়ালেই চলে গেছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ ফাইনাল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকেরা যে রোমাঞ্চের আশা করেছিলেন, সেটার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আজ চট্টগ্রাম রয়্যালসকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ৬৩ রানের জয়ে শিরোপা নিজেদের ঘরে নিয়ে গেল শান্তর দল।
১৭৫ রানের লক্ষ্যে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। যার শুরুটা করেন বিনুরা ফার্নান্দো। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়েছেন ফার্নান্দো। নাঈম ৯ রান করলেও জয় রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে জাহিদুজ্জামান ও মির্জা বেগের ২৩ বলে ২৫ রানের জুটিই চট্টগ্রামের ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস ২ রানে হারিয়েছে শেষ ৪ উইকেট। ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে গুটিয়ে গেছে শেখ মেহেদী হাসান নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন চট্টগ্রামের ওপেনার মির্জা বেগ। ৩৬ বলের ইনিংসে মেরেছেন ২ চার ও ১ ছক্কা। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৩ ওভারে ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হাসান মুরাদ পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন জেমস নিশাম ও আবদুল গাফফার সাকলাইন।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। পুরো ২০ ওভার খেলে ১৭৪ রান করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ক্রিস গেইল, তামিম ইকবালের পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। ৬২ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় তানজিম তামিম করেছেন ১০০ রান। চট্টগ্রামের শরীফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ তামিম হয়েছেন ফাইনালসেরা। ফিল্ডিংয়ে দুটি ক্যাচও ধরেছেন তিনি।