ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিল, ঠিক সেখান থেকেই এদিন শুরু করে ভারতের ব্যাটাররা। এবার সঞ্জু স্যামসনদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করল নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কিউই বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করল ভারত। আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের বিশাল পুঁজি পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
টস হারা ভারত রানের খাতা খুলেছিল ছক্কা দিয়ে। ম্যাট হেনরির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলটাকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন স্যামসন। তাঁর ছক্কাটাই পুরো ইনিংসে ভারতের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল। সেই শুরুর পর ইনিংসজুড়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের শাসন করেছে ভারতীয় ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ফাইনালে সর্বোচ্চ ১৮০ রান দেখেছিল ভক্তরা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এদিন ইনিংসজুড়ে সমানতালে তাণ্ডব চালিয়ে গেছে ভারতীয় ব্যাটাররা। স্যামসন, অভিষেকের শুরুর ঝড়ের পর নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন ইশান কিষান; তিনজনই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ফিফটি না করলেও কম যাননি শিবম দুবে। সব মিলিয়ে ফাইনালে নিজেদের ইনিংসে স্বাগতিক দর্শকদের শতভাগ ক্রিকেটীয় বিনোদন দিয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা।
৭.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতকে ৯৮ রান এনে দেন দুই ওপেনার অভিষেক ও স্যামসন। ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক টিম শেইফার্টের হাতে ধরা পড়লে এই জুটি ভাঙে। তাতে অবশ্য তাণ্ডব থামেনি ভারতের। দ্বিতীয় উইকেটে কিষানকে নিয়ে ১০৫ রান যোগ করেন স্যামসন। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে এবং সেমিফাইনালেও সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে ফিরেছেন স্যামসন। এবারও সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হলো না তাঁর। তবে দলের স্কোরবোর্ডে বিশাল রান এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারায় সেঞ্চুরির না পাওয়ার হতাশা ভুলে যাওয়ার কথা স্যামসনের।
স্যামসনের পিছুপিছু প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন কিষান। তার আগে ২৫ বলে তাঁর অবদান ৫৪ রান। হার্দিক পান্ডিয়া (১৩ বলে ১৮ রান) ক্রিজে টিকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সতীর্থদের রান উৎসবের দিনে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সূর্যকুমার (১ বলে ০)। শেষ দিকে সে প্রভাব টের পেতে দেননি দুবে। ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন জেমস নিশাম। রান খরচে ঠিকই উদার ছিলেন; ৪ ওভারে ৪৬ রান দেন এই পেসার। রবীন্দ্র এবং হেনরির শিকার একটি করে উইকেট। এদিন বল হাতে সবচেয়ে বেশি রান বিলিয়েছেন হেনরি; ৪ ওভারে দেন ৪৯ রান। ৩ ওভার বল করা জ্যাকব ডাফির খরচ ৪২ রান।