বলছেন আমিনুল হক
সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিসিবির নেই বলে মনে করেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
আজ সংবাদমাধ্যমকে আমিনুল বলেন, ‘এখন ক্রিকেট বোর্ড স্টান্টবাজি করে, আপনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্ন করার আগেই সাকিবকে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (বলে ফেলেছে)। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড নিতে পারে না। সাকিবের ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যাপার। সেই আইন অমান্য করে ক্রিকেট বোর্ডের কোনো এখতিয়ার নেই সাকিবকে ফিরিয়ে আনার। সাকিব ফিরে আসুক আমরা অবশ্যই চাই, তবে রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্য দিয়ে সাকিবকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
মাগুরা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর বেশ কিছু মামলা হয় সাবেক অধিনায়কের নামে। দেশে ফেরার আগে সেসব মামলা নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আমিনুল, ‘এটা (সাকিবের ইস্যু সামনে আনা) তো রীতিমতো স্টান্টবাজি আমি বলব। সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের আইন যদি নিরপরাধ হয়, মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে তাহলে সাকিব আসবে তাতে কারও কোনো সমস্যা নেই। খেলোয়াড়কে আমি সম্মান দিতে চাই। সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার খেলবে এটা আমিও চাই।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে কানপুরে সবশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন সাকিব। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর দেশেই আসা হয়নি তারকা অলরাউন্ডারের। এমতাবস্থায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে গতকাল সাকিবকে ফেরানোর কথা জানিয়েছে বিসিবি।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘নতুন করে ২৭ ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি (সাকিব) যদি ফিট থাকেন, পারফর্ম করতে থাকেন, তাঁকে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে বিবেচনা করতে পারবে নির্বাচক প্যানেল।’ আরেক পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিব খেলবে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার আইনি জটিলতা বিষয়টি দেখবে সরকার।’ সাকিবকে ফেরানো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, ‘সাকিব দেশে অবসর নিতে চায়। সাকিব আমাদের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড। সে কারণে আজ বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপিত হয়েছে সাকিব-ইস্যু। বোর্ড থেকে আমরা সাকিবকে চেয়েছি।’