আফগানিস্তানের কাবুলে বিমান হামলায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তীব্র জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তায় দিয়েছিলেন দেশটির ক্রিকেটাররা। এবার বিমান হামলায় আহতদের পাশে দাঁড়ালেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা।
আফগানিস্তানের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদি, অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইব ও স্পিনার কায়েস আহমদ কাবুলের ওয়াজির আকবর খান ও ইমার্জেন্সি হাসপাতালে গিয়ে হামলায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় তারা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) কর্মকর্তারা।
বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলায় ৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, হামলাটি চালানো হয় কাবুলের একটি ২০০০ শয্যার একটি বড় হাসপাতালে। হামলায় হাসপাতালের বড় অংশ ধসে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যদিও এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান।
আফগানিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার রশিদ খান এই হামলায় ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের সাম্প্রতিক খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা অবকাঠামো—ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—এগুলোর ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মানবজীবনের প্রতি এমন চরম অবহেলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এটি শুধু বিভাজন ও ঘৃণাই বাড়াবে।’
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রশিদ, ‘আমি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন এই ভয়াবহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনে। এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান জনগণের পাশে আছি। আমরা সুস্থ হয়ে উঠব, আমরা আবার জাতি হিসেবে ঘুরে দাঁড়াব—আমরা সব সময়ই তা করি, ইনশাআল্লাহ।’
ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি পাকিস্তানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আফগানিস্তানের আরেক স্পিনার গজনফার। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সেই জায়গাটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে; সেখানে থাকা মানুষদের হত্যা করা হয়েছে। আফগান জনগণের কাছে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বুঝতে পারছি না তারা কী প্রমাণ করতে চায়। তারা এসে সাধারণ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে—এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আফগানিস্তান এটা মেনে নেবে না। সবাই আফগানিস্তানের ইতিহাস জানে। যদি সেই ইতিহাস আবার ফিরে আসে, তাহলে তা পাকিস্তানের জন্য খুবই খারাপ হবে।’