হোম > খেলা > ক্রিকেট

প্রতিমন্ত্রী হয়ে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন আমিনুল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পরও নির্বাচনে নিজ আসনে তিনি হেরে যাওয়ায় সংশয়টা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে হেরে গেলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক। আজ থেকে দাপ্তরিক কাজ শুরু হওয়ার কথা তাঁর। শপথ নিয়েই গতকাল শোনালেন স্বপ্নের কথা। আশ্বাস দিলেন গোলপোস্টের মতো পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে আগলে রাখার।

খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোর কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ সেই ব্যতিক্রমী কিছু দেখা যায়নি বললেই চলে। আমিনুল সরাসরিই বলেন, ‘আমি চাই যে খেলাধুলার ভেতরে যাতে রাজনীতিকীকরণ না করা হয়, দলীয়করণ না করা হয় এবং যারা খেলাধুলাকে ভালোবাসে, যারা ক্রীড়াঙ্গনকে ভালোবাসে, সেই মানুষগুলোকে বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব দিতে চাই। প্রতিটি সেক্টরকেই আমরা জবাবদিহির ভেতরে আনব।...সবাইকে জবাবদিহির ভেতরে থাকতে হবে।’

ক্রীড়াকে পেশা বানিয়ে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা দূর করতে চান আমিনুল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সরকারি বেতনকাঠামোর আওতায় আনার অঙ্গীকার তাঁর, ‘আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, খেলোয়াড়দের আমরা প্রতি মাসে সরকারিভাবে তাদের বেতনের আওতায় নিয়ে আসব; যাতে একটি পেশাদারি মনোভাব তৈরি হয়। আমার খেলোয়াড়েরা যদি ভালো থাকে, তাহলে পরিবেশ ভালো থাকবে। অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়দের দিকে বেশি মনোযোগী হতে চাই।’

চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করে তৃণমূলের পথ সহজ করতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং যাঁরা ক্যারিয়ার শেষ করেছেন, তাঁদের জন্যও পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ক্রীড়া শিক্ষক ও অফিসার রাখতে চান, যেখানে অগ্রাধিকার পাবেন সাবেক খেলোয়াড়েরা। তিনি বলেন, ‘আমি সেসব খেলোয়াড়ের আশান্বিত করতে চাই, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরও আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই সরব ছিলেন আমিনুল। সরকার বদলের হাওয়া বোর্ডেও পড়বে কি না, এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁর কাছে। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি বিগত সময়ে বলেছি, এখনো বলছি যে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। তবে যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছি, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে...কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’

সম্প্রতি সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর কথা ভাবছে বিসিবি। আমিনুল চান সাকিব দেশে ফিরুন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত নমনীয়। যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার, তাঁদের অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা চাই, তাঁরা যাতে আমাদের বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারেন।’

আমিনুল নিজেও ফুটবলের মানুষ। সম্প্রতি ফুটবলের প্রতি দেশের মানুষের আবেগ আকাশছোঁয়া। কিন্তু পাচ্ছে না বলার মতো কোনো সাফল্য। আগামী সাফে ভালো করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা বলে জানিয়েছেন আমিনুল, ‘আমি ফুটবলের লোক, ফুটবলের প্রতি আমার আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ভবিষ্যতে যে সাফ আছে, সেই সাফে যাতে ভালো কিছু করতে পারি এবং তা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আছে, সর্বোচ্চটুকু আমরা করব।’

মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে এবার নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় আমিনুল। তাঁর এই স্বপ্নগুলোর আলোর মুখ দেখবে কি না, তা সময় বলে দেবে। একজন মাঠের মানুষের হাত ধরে নতুন শুরুর অপেক্ষায় এখন দেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গন।

নামিবিয়াকে বিধ্বস্ত করে সুপার এইটের টিকিট কাটল পাকিস্তান

বিসিবি সভাপতি নয়, নাকভির চোখে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের ‘আসল নায়ক’ তাহলে কে

বিশ্বকাপজয়ী মেসুত ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

দেশের খেলাধুলাকে দলীয় ও রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার আমিনুল হকের

ইমরান খানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান

আমিরাতকে উড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার চারে চার

১২ বছর পর আফগানদের এমন দুর্দশা

শুধু মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করুন, নতুন সরকারকে জ্যোতির বার্তা

বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক জয়, সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ কারা

পাকিস্তানকে হারিয়ে নামিবিয়া কি অঘটনের জন্ম দেবে