আড়াই বছর ধরে কারাগারে বন্দী পাকিস্তানের ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির খবরে ক্রিকেট মহল উদ্বিগ। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতার খবর নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইমরান খানের চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ার ব্যাপারে কদিন আগে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর স্বাস্থ্যগত ব্যাপার নিয়ে চলছে কথাবার্তা। পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কেমন আছেন, সেই প্রশ্ন অনেকেরই। তবে ইমরানের অসুস্থতা নিয়ে আজ নাকভি উল্টো তির ছুড়লেন ইমরানের দিকেই। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন,‘অসাধারণ! আমরা যদি চিকিৎসা করাতাম, সেভাবে করতামই।’ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বললেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের জনগণকে এ ব্যাপারে জানাব।’
চিকিৎসার সময় ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার ব্যাপারে অনুমোদন দিতে পাকিস্তান সরকারের অনীহা ছিল বলে জানিয়েছেন ইমরানের বোন আলিমা খান। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে এই দাবি করেছেন আলিমা। এখানে উল্টো ইমরানের বোনকেই দায়ী করেছেন নাকভি। পিসিবি চেয়ারম্যান আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘আলিমা খান সাহিবা তাঁর পার্টিকে বলেছিলেন, ‘যদি এটা (ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা) আমরা মেনে নিই, তাহলে ব্যাপারটি থেমে যাবে।’ তাঁর (আলিমা) কারণে তিন দিন পর্যন্ত চিকিৎসা সম্ভব হয়নি।’’
ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের মতো কিংবদন্তি পেসাররা উঠে এসেছেন ইমরান খানের হাত ধরেই। ইমরানের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার খবর পেয়ে কদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ওয়াসিম আকরাম। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে ওয়াসিম আকরাম লিখেছিলেন, ‘আমাদের অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা শুনে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং তাঁর জন্য সম্ভাব্য সেরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।’
ইমরানের চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি অধিনায়কেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এজ’-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১৪ অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সুনীল গাভাস্কার, গ্রেগ চ্যাপেলের পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন স্যার ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।