সাক্ষাৎকার

‘কোনো অতৃপ্তি নেই মনের ভেতরে, আমি তৃপ্ত’

এ মুহূর্তে সাকিব আল হাসান খেলছেন আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতে। দুই দিন আগে ফোনে দুবাই থেকে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাকিবের বর্তমান জীবনটা যেন উঠে এল। আজ থাকছে দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস

প্রশ্ন: আপনার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য আছে যে এত বছর খেলতে চাই?

সাকিব আল হাসান: না, ভালো লাগছে যতক্ষণ, পারফর্ম করতে পারি যতক্ষণ, যেখানেই খেলি, দলে যেন অবদান যদি রাখতে পারি, ততটুকুই। আমার কোনো গোল নেই।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে ভালো সময় যেমন অসংখ্য, অনেক খারাপ সময়ও তো গেছে আপনার। ২০১৪ সালে বিসিবির নিষেধাজ্ঞা, ২০১৯ সালে পড়লেন আইসিসির নিষেধাজ্ঞায়। এখন প্রবাসজীবন কাটাতে হচ্ছে। জীবনে কোন সময়টা সবচেয়ে খারাপ মনে হয়েছে?

সাকিব: একটাও না। আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি। এটা এ পর্যন্ত সহায়তা করছে আমার লাইফে। এখনকারটা (দেশের বাইরে থাকা) হয়তো সামনে আরও বড় সহায়তা করবে।

প্রশ্ন: আপনার অনেক ফ্যান, যাঁরা আপনার প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢুকতে চান স্টেডিয়ামে। তাঁদের প্ল্যাকার্ড ফেলে দেওয়ার ঘটনা একাধিকবার দেখা গেছে। এটা আপনাকে কতটা পীড়া দেয়?

সাকিব: কষ্ট-পীড়া দেয় না। যেটা হচ্ছে ভক্তদের জন্য খারাপ লাগে। ওদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যে ওরা এখনো পাগলের মতো আমাকে সাপোর্ট করে। এ ছাড়া তো আসলে বলার কিছু নাই। ভালোই হয়েছে বাধা দেওয়াতে ওদের সমর্থনটা আরও বেশি হয়েছে।

প্রশ্ন: দেশের বাইরে যেখানেই খেলেন, ভক্তদের সাপোর্ট কতটা অনুপ্রাণিত করে যে, আপনার এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে?

সাকিব: (একটু থেমে) আমি তো বলেছি ক্রিকেট খেলে আমার ভালো লাগে, এই কারণে খেলে যাচ্ছি। কোনো দেওয়া-নেওয়া, চাওয়া-পাওয়া এত কিছু চিন্তা করে ক্রিকেট খেলি না।

প্রশ্ন: এই বছরে আপনার অনেকগুলো রেকর্ড সতীর্থদের কাছে হাতছাড়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমান দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, লিটন দাস রানে আপনাকে টপকে গেছেন। তাইজুল ইসলাম টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির রেকর্ড তাঁর করে নিয়েছেন। ওদের কাছে আপনার আরও কী চাওয়া থাকবে?

সাকিব: যারা বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবে যেন তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে পারফর্ম করতে পারে, সেটাই আমার চাওয়া। আর আমার কাছে মনে হয় না, কোনো খেলোয়াড় রেকর্ডের দিকে চিন্তা করে খেলে। যদি কেউ খেলে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয় বা ব্যক্তিগত গোল।

প্রশ্ন: কদিন আগে মুশফিকুর রহিম ১০০ টেস্ট খেললেন। আচ্ছা, আপনার কি কখনো ১০০ টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল?

সাকিব: আমি আসলে এত কিছু চিন্তা করি না যে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। এটা করলে আমি খুশি, ওটা না করলে খুশি না। আমার যেটা আছে, যা করছি, আমি সবকিছু নিয়েই খুশি। আমার এমন কিছু নেই যে আমার আশা পূরণ হয়নি। আমি সবকিছু নিয়ে খুশি। আমার কোনো অখুশি হওয়ার কোনো জায়গা নেই, কোনো অতৃপ্তি নেই আমার মনের ভেতরে। আমি তৃপ্ত। আমার সবকিছু নিয়েই আমি তৃপ্ত।

প্রশ্ন: আপনাকে ছাড়াই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কত দূর যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন?

সাকিব: আমার পক্ষে বলা মুশকিল যে কতটা সম্ভাবনা আছে। খুব বেশি আমি ফলো করি না, আমার পক্ষে বলাটা কঠিন। তবে আমি আশা করি যে বাংলাদেশ টিম ভালো করবে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট লম্বা সময় আলোকিত হয়েছে আপনাদের মতো কিছু বড় তারকাদের ধারাবাহিক সাফল্যে। একে একে আপনাদের বিদায়ে এখন একটা ট্রানজিশনাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আপনারা অর্থাৎ সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা যেখানে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের ক্রিকেটাররা ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিতে পারছেন না। আপনার পর্যবেক্ষণ কী এ বিষয়ে?

২০২৪-এর অক্টোবরের পর বাংলাদেশের হয়ে আর খেলার সুযোগ হয়নি সাকিব আল হাসানের। ছবি: এএফপি

সাকিব: যাদের চিন্তা এ রকম, তারা ভালো বলতে পারবে। আমার জায়গা থেকে দেখি যে আমাদের চেয়ে বেটার ব্যাটার আছে। আমাদের চেয়ে বেটার বোলার আছে। আমাদের চেয়ে বেটার ফিল্ডার এখন আছে। সব দিক থেকেই দেখি বেটার সবকিছু আছে (দলে)। আমাদের এখন ৮-১০ বছর খেলা খেলোয়াড় আছে সাত-আটজন। বাকিরা পাঁচ-সাত বছর ধরে খেলছে। সেভাবে নতুন বলতে কেউই নেই। অভিজ্ঞতায় একটুও ঘাটতি দেখি না। আপনি যে ট্রানজিশনের কথা বলছেন, আমি আসলে ওটাতে খুব একটা বিশ্বাসী না। আমি সব ইতিবাচকই দেখি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালো ভবিষ্যৎ দেখি। ভালো করতে যা যা দরকার একটা দলের, তার সবই আছে।

প্রশ্ন: একটা সময়ে আপনার যে ব্যস্ততা ছিল, যেমন—অবিরত বিজ্ঞাপনের শুটিং, এনডোর্সমেন্ট, শোরুম উদ্বোধন, রাজনীতি, ব্যবসা—ওই তুমুল ব্যস্ত জীবনটা কি মিস করেন?

সাকিব: নাহ, কোনো লাইফই আমি মিস করি না। যখন যে লাইফটা থাকে, তখন সেটাই আমার কাছে ভালো। অনেক সময় থাকে যখন মানুষের অবসর থাকে না। সব সময় মানুষ আবার ব্যস্তও থাকে না। যখন ব্যস্ততা ছিল তো ছিল। এখন আবার অন্য রকম জীবন। আমি এটা মেনে নিতে পারি। আমার এসব নিয়ে খুব একটা সমস্যা হয় না।

প্রশ্ন: আপনার কি কখনো মনে হয় খেলোয়াড়ি জীবনেই রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যবসাসহ মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ডে না জড়ালেও চলত। তাহলে এখন নিরিবিলি দেশের হয়ে খেলে যেতে পারতেন। দেশে ফেরা নিয়েও ভাবতে হতো না?

সাকিব: আমার কাছে যেটা মনে হয় যে অন্যের কাজে নাক গলানো...অন্যদের কাজে যারা বেশি নাক গলায় আমার কাছে সেটা প্রবলেম না। এটা অন্যদের প্রবলেম।

বাংলাদেশের হয়ে খেলতে না পারলেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন নন সাকিব। বর্তমানে তিনি আইএল টি-টোয়েন্টিতে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলছেন। ছবি: এএফপি

প্রশ্ন: জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, একটা কথা বেশ শোনা যাচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নাকি এই ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে যেতে পারে! এ বিষয়ে আপনার কী মনে হয়?

সাকিব: বাংলাদেশে তো সবই সম্ভব। কেউ কেউ (বিএনপিপন্থী সংগঠকেরা) যেহেতু বলেই আসছে যে এটা অবৈধ বোর্ড, ভাঙতেই পারে! আবার যারা আছে (বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে), তারা যদি শক্তিশালী হয়ে অভিযোগ করে দেয় আইসিসিতে? এত ভবিষ্যদ্বাণী করার কী আছে? অপেক্ষা করুন। সবই তো দেখা যাবে।

প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন শেষ। আপনার কি নিজ থেকে কিছু বলার আছে?

সাকিব: একটা বিষয়ে বলার আছে যে শুধু শুধু খেলোয়াড়দের, মানে বর্তমান সময়ে একজন খেলোয়াড়কে যে টিমে নেই কিংবা যে আগে খেলছে, তাদের নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করাটা তাদের জন্য বলব অপমানজনকই। কারণ, তারা স্বাভাবিকভাবেই ভালো কথাটা বলবে। ভালো কথাটা বলতে যেয়ে এখন যারা খেলছে তাদের ছোট করা হয় বলে আমি মনে করি। ধরুন, কোনো একটা খেলোয়াড়ের কাছে আপনি জিজ্ঞেস করলেন ম্যাশ (মাশরাফি) ভাই কেমন ছিল? সে থাকতে তো অনেক কিছু করছে। কথার কথা সাকিব আল হাসান এই করছে, সেই করছে। এটাতে হয় কী ওই জায়গায় যে খেলতে আসছে কিংবা যার নতুন করে অনেক কিছু করার সম্ভাবনা আছে, তাকে ছোট করা হয়। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে ছোট করা হয়। এগুলো না করাই ভালো।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের দর্শকেরা নিশ্চয়ই চান আপনাদের সাফল্য ছাড়িয়ে যাক পরের প্রজন্মের ক্রিকেটাররা। তৈরি হোক নতুন নতুন মাইলফলক।

সাকিব: হ্যাঁ, করবে। লম্বা সময় খেললে হয়। এখন যারাই আছে, তারা যত বেশি ম্যাচ খেলবে এরা আরও বেশি রান করবে, উইকেট পাবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে মনে হয় এখন দু-চারজন বোলার আছে—যাদের টি-টোয়েন্টিতে ৬০, ৭০, ৮০ উইকেটেরই মধ্যে হয়ে গেছে। ধরুন, রিশাদ কত উইকেট পেয়েছে? ৬০-৭০টা তো মিনিমাম হয়ে গেছে (৭১টি)। ওর বয়স হচ্ছে ২২-২৩, সে যদি আরও ১৫ কিংবা ১৮ বছর খেলে, ওর ক্যারিয়ার শেষে দেখা যাচ্ছে যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ উইকেট হয়ে যাবে, তা-ই না? আমরা এগুলো এমন পর্যায়ে নিয়ে যাই যে ওরা বড় স্বপ্ন দেখতে পারে না।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে আপনার অনুজ সতীর্থরাই কিন্তু বলেছেন আপনাদের ছায়াতে থাকতে থাকতে তাঁরা আর বড় হয়ে উঠতে পারেননি। কদিন আগে এক পডকাস্টে আপনি বলেছেন, ড্রেসিংরুমে জুনিয়ররা সেভাবে কথা বলে না, অনেক চুপচাপ থাকে।

সাকিব: এটা আমাদের কালচারের কারণে। অন্য কোনো বিষয় না।

প্রশ্ন: জুনিয়ররা সিনিয়রদের সামনে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে?

সাকিব: স্বাভাবিক, আমাদের পরিবেশ তো ও রকম না যে পরিবারের ছোট সন্তান তার বাপের সিদ্ধান্তের ওপরে কথা বলবে।

রংপুর কি আজ পারবে ঘুরে দাঁড়াতে

মোস্তাফিজকে এবার মিস করেছেন নবি

বিশ্বকাপের আগে নির্বাচকদের কী ইঙ্গিত দিচ্ছেন শান্ত

অ্যাশেজ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে খাজা

ভারতের কাছে বাংলাদেশের হৃদয়বিদারক হারের কথা মনে পড়ল আশরাফুলের

সুপার ওভার রোমাঞ্চে জিতল রাজশাহী

লিগের সম্প্রচার বন্ধ, কী বলছে বাফুফে

ফুটসালে আছি বলে ফুটবল খেলব না, বিষয়টা এমন নয়: সাবিনা

শামীমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়েও জিততে পারল না ঢাকা

লিগের মাঝপথে মোহামেডান ছাড়ার ঘোষণা মুজাফফরভের