আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে বিসিবিতে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই কমিটির প্রধান হিসেবে বিসিবি সভাপতি হয়েছেন তামিম ইকবাল। ১১ সদস্যের কমিটির তিনজন বিএনপির মন্ত্রীর ছেলে, আছেন এক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীও। তামিমরা দৃশ্যপটে আসতেই বিকেলের মধ্যে বিসিবি ছাড়তে হয় বুলবুলকে। তবে নিজেকে এখনো বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করছেন তিনি।
এনএসসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও আইনত অচল’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বুলবুল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বুলবুল জানান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, সিআইডির প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ ও ১৫টি ক্লাবের ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা আপত্তিগুলোও তখন আইনি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার এনএসসির নেই। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশে হওয়া এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে বর্ণনা করেন বুলবুল। তাঁর মতে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলো সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকার কথা থাকলেও এখানে তার লঙ্ঘন হচ্ছে। বুলবুল বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়কে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরেছে।
নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘শাম এন্টনি’ বা ভুয়া সত্তা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, এনএসসি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাসনের টুঁটি চেপে ধরার শামিল।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় ও বর্তমান অস্থিতিশীলতা কাটাতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বুলবুল জানিয়ে দিয়েছেন, উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত কোনো রায় না আসা পর্যন্ত তিনিই বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে বহাল আছেন।